ইউটিউব দেখে কুমিল্লায় প্রথম বারের মতো আঙ্গুর চাষ করলেন আনোয়ার

মোস্তাফিজুর রহমান।।
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

কুমিল্লায় ইউটিউব দেখে প্রথম বারের মতো আঙ্গুর ফল চাষ করলেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা ইউনিয়নে বলরাম পুর গ্রামের আলোচিত কৃষক কাজী আনোয়ার।
ইচ্ছে শক্তি থাকলে যে উপায় হয় এটা যেন তার জলন্ত প্রমান। লেখাপড়া না জানা একটা লোক শুধু মাত্র ইউটিউবে দেখে আঙ্গুর ফলের মতো একটা দামি ফল চাষে নেমে পড়েন। তার এই গল্প অন্য দশজনকে অনুপ্রেরণা জোগাবে। সরকারি সহযোগিতা ছাড়া এতো দূর আসতে পেরে খুশি কৃষক আনোয়ার। আঙ্গুর ফল আর বিভিন্ন জাতের তরমুজ চাষ করে সফল হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি।

গতকাল শনিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তৃর্ণ ফসলি জমির মাঝ খানে ১৬ শতক জমির মধ্যে পরীক্ষামূলক ভাবে আঙ্গুর ফল চাষ শুরু করলেন আনোয়ার। গত বছর শীতকালে ১১০টি আঙ্গুরের চারা দিয়ে তার যাত্রা শুরু। বর্তমানে তার জমিতে চারা রয়েছে ৯২টি। ২৮টি চারা বৃষ্টি এবং বিভিন্ন সমস্যার কারণে মারা যায়।
জমিটি ঘুরে দেখা যায় চারা গুলোর জন্য ব্যবহার করতে হয়েছে বাঁশ এবং লোহার পাইপের চাড়। আঁকাবাকা ভাবে বেয়ে আছে কইডা,ধুন্দুল ও কুমড়ার চাড়ের মতো। আমাদের দেশীয় সবজির চাড়া গুলো মাচার মধ্যে যেভাবে বেড়ে উঠে ঠিক আঙ্গুর গাছও একই ভাবে বেড়ে উঠছে। এ বছর ফলন আসার কথা তাই এর মধ্যে গাছ গুলোতে থোকায় থোকায় আঙ্গুর আসাও শুরু হয়েছে। বাগানটি করতে আনোয়ারের প্রায় ১ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। সাথে পরিশ্রমের যেন শেষ নেই।
এবিষয়ে কৃষক কাজী আনোয়ার জানান, আমি গত বছর শীতকালে মোবাইলের ইউটিউবে দেখে স্বিদ্ধান্ত নেই আমিও পরীক্ষামূলক ভাবে আঙ্গুর ফল চাষ করবো। দেশের মানুষকে ফরমালিন মুক্ত আঙ্গুর ফল খাওয়াতে আমার এই উদ্যোগ। কিন্তু ভয় ছিলো এই মাটিতে হয় কিনা। পরে ১১০ টি চারা রোপণ করি । তার মধ্যে ২৮টি চারা মরে যায়। বর্তমানে আমার বাগানে চারা রয়েছে ৯২ টি। আমার এ পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে ফলন ঠিক ভাবে আসলে আশা করি লাভবান হওয়া যাবে।
তিনি আরো বলেন, আমি অনেক পরিশ্রম করে এই বাগানটি করেছি। সরকার যদি কৃষি অফিস থেকে আমাকে একটু সাহায্য করতো তাহলে হয়তো আমার ফলনটা আরো ভালো হইতো । আমি সময় মতো সব কিছু দিতে পারতাম। রোজার ঈদের ১৫ দিন পরে সদর দক্ষিণ উপজেলার ইউএনও আমাকে আঙ্গুর ফল চাষের জন্য ১লাখ টাকা অনুদান দেবে বলছে । কিন্ত ৬ মাস হয়ে গেছে এখনো পাই নাই।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কৃষি অফিসার মো. জুনায়েদ কবির খান বলেন, আনোয়ার খুব ভালো এবং সফল একজন কৃষক। তার বাগানটা আমি নিজে গিয়ে ঘুরে আসছি। সে বিভিন্ন জাতের তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছে। আমি আশা করি সে আঙ্গুর ফল চাষেও সফল হবে। আর এটা যেহেতু আমাদের দেশীয় ফল না তাই এটা সম্পর্কে এখন কিছু বলা যাবে না। সে যদি সফল হয় তাহলে বলতে পারবো যে কুমিল্লার এই মাটি আঙ্গুর ফল চাষের জন্যেও উপযোগী। সেখানে আমাদের একজন অফিসার আছে সাহিদা খাতুন উনি নিজে গিয়ে সব সময় দেখাশোনা করে। আনোয়ারের জন্য আমাদের সহযোগিতা সব সময় থাকবে।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবাইয়া খানম বলেন, তার আঙ্গুর ফল চাষের জন্য যে অনুদান দেওয়ার কথা সেটা আমি জানি। এ মাসের শেষের দিকে আশা করি পেয়ে যাবে। তার এ উদ্যোগের জন্য শুভ কামনা রইলো।