ইতালির গ্রীণকার্ড পাওয়ার পর স্বামীর সাথে প্রতারণা করে লাপাত্তা কুমিল্লার রাশিদা

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি ।।
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

ইতালিতে স্বামীর সাথে এক বছর সংসার জীবনযাপন করে গ্রীণকার্ড পেয়ে সেই স্বামীর সাথেই প্রতারণা করে লাপাত্তা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাশিদা খানম (২৫) নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। যার পাসপোর্ট নং (PASSPORT NO. BX0846917), (CF.KHNRHD98T44Z249V-Italy), STRADA MAGGIORE N.32-Inside: 5 BOLOGNA (BO) , ITALY.| পরকীয়া ও অর্থ লোভের কারণেই এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ভুক্তভোগির পরিবারের দাবি। অভিযুক্ত রাশিদা খানম কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার দৌলতপুর এলাকার ওয়াদুদ খাঁনের মেয়ে। সে বর্তমানে তার স্বামীর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়ে অন্যত্র সংসার জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টির সমাধান চেয়ে ভুক্তভোগি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার সুয়াগঞ্জ গ্রামের মৃত আবুল বাশারের ছেলে মোহাম্মদ শাহ ইমরান দেশে এসে ক্ষতিপূরণের দাবিতে আদালতের মাধ্যমে স্ত্রী রাশিদা খানম ও তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন।

আইনী নোটিশ সূত্রে জানা গেছে, ইতালি থেকে ২০১৮ সালে দেশে ছুটিতে এসে শাহ ইমরান একই বছরের ২৯ আগস্ট পারিবারিকভাবে ১৫ লাখ টাকা দেহমোহরে শরীয়াহ মোতাবেক রাশিদা খানমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিবাহের সময় শাহ ইমরান তার স্ত্রী রাশিদাকে প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার প্রদান করেন। বিয়ের পর ছুটিতে থাকাকালীন সময়ে সংসার জীবনযাপনও করেন তারা। উভয় পরিবারের সম্মতিতে স্ত্রীকে বিদেশ নেয়ার প্রক্রিয়া চালু রেখে ছুটি শেষ হওয়ায় শাহ ইমরান ইতালি ফিরে যান। এরপর শাহ ইমরান তার স্ত্রীকে প্রায় ত্রিশ লাখ টাকা খরচ করে ২০২১ সালের ১৩ ফেব্রæয়ারি ফ্যামিলি ভিসায় ইতালিতে নিয়ে যান। সেখানেও তারা সুখে-শান্তিতে দাম্পত্য জীবনযাপন করতে থাকেন। ৮ মাস পর রাশিদা ইতালির গ্রীণকার্ড (PERMESSO DI SOGGIORNO) পান। এরপর স্বামীর সহায়তায় রাশিদা ইতালির বলোনিয়া (BOLOGNA) শহরের একটি আবাসিক হোটেলে (HOTEL SYDNEY) চাকুরি নেন। শাহ ইমরান তার স্ত্রী রাশিদা খানমকে জিজ্ঞেস করে হোটেলে সে কি কাজ করে? জবাবে সে বলেছে, সেখানে সে হোটেলের রুম, বাথরুম পরিষ্কার ও হোটেলে থাকা ক্লায়েন্টদের ব্যবহৃত মদ-বিয়ারের খালি বোতল অপসারণ করে। স্বামীর আপত্তি থাকা স্বত্ত্বেও সে হোটেলের এ কাজ ছাড়েনি। বরং খোলামেলা পোষাকে বেপরোয়া চলাফেরা শুরু করে সে। হারাম কামাই থেকে ফিরে আসতে বারবার বলার পরও অর্থ লোভে সে সুকৌশলে স্বামীর কথা এড়িয়ে যেতো এবং চাকুরি অব্যাহত রাখে। এরই মধ্যে ২০২২ সালের জুলাই/আগস্টে রাশিদা অন্তঃস্বত্বা হন। তার গর্ভে স্বামী শাহ ইমরানের ঔরষজাত সন্তান আসে। তবে, তার মা-বাবার কু-প্ররোচণায় সে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট করে বলে ‘ডাক্তার বলেছে আরো চার-পাঁচ মাস সন্তান কনসিভ করা যাবেনা।’ এরপরও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে শাহ ইমরান তার স্ত্রী রাশিদার সকল ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন এবং আগের মতই সুখে শান্তিতে সংসার জীবনযাবন করতে থাকেন। এরপর রাশিদা তার বোন ফাহমিদার বিয়ের কথা বলে চলতি বছর ১৫ জানুয়ারি দেশে ছুটিতে আসেন। কাজের ব্যস্ততা থাকায় শাহ ইমরান তার স্ত্রীর সাথে দেশে আসতে পারেনি। দেশে আসার পর রাশিদা ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত তার স্বামী ও স্বামীর বাড়ীর লোকজনের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন। এরপর রাশিদা তার স্বামীর কল না ধরা সহ নানান অজুহাতে তাকে অবহেলা করতে থাকে। একপর্যায়ে সে তার স্বামীর সাথে যোগাযোগ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেন। পরে শাহ ইমরান তার শ্বশুর-শ্বাশুড়ী মারফত জানতে পারেন দেশে তিন মাস থাকার পর রাশিদা গত রমজান মাসে আবার ইতালিতে চলে যান। কিন্তু এ বিষয়ে তার স্বামী ইমরান কিছুই জানেন না। এমনকি রাশিদার পরিবার থেকেও তাকে কিছুই জানানো হয়নি। ইতালিতে আসলেও রাশিদা তার স্বামীর বাসায় ওঠেনি। পরে ইতালিতে বিভিন্নভাবে খোঁজ নিয়ে শাহ ইমরান জানতে পারেন তার স্ত্রী রাশিদা ইতালির ভিন্ন একটি শহরে অবস্থান করছেন এবং পরপুরুষের সাথে সংসার জীবনযাপন করছেন। গত ৩০ জুলাই শাহ ইমরান দেশে এসে শ^শুর বাড়ীতে গিয়ে এ বিষয়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে শ্বশুর-শ্বাশুড়ী সহ তাদের এলাকার গণ্যমান্য লোকজন কর্তৃক বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস পেয়ে তিনি নিজ বাড়ীতে চলে আসেন। গত শুক্রবার (৪ আগস্ট) সকালে শাহ ইমরান তার এলাকার গণ্যমান্য লোকজন সহ রাশিদার বাবার বাড়িতে আবারো গেলে তারা তাদের সাথে অসদ্ব্যবহার করে এবং শাহ ইমরানকে দেখে নেয়ার হুমকি-ধমকি প্রদান করে। এ সময় রাশিদা তার বাবার মোবাইলে কল করে লাউড স্পীকারে উপস্থিত সকলের সামনে শাহ ইমরানে সাথে তার বৈবাহিক সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি না করতে বলে হুমকি-ধমকি প্রদান করে। পরে ভুক্তভোগি শাহ ইমরান গত বুধবার (৯ আগস্ট) আদালতের মাধ্যমে আইনের আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং রাশিদা সহ তার বাবা-মাকে উকিল নোটিশ পাঠিয়ে ক্ষতিপূরণ দাবি সহ বিষটির সহজ নিষ্পত্তির অনুরোধ জানান। প্রায় ৩৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি স্ত্রী কর্তৃক এহেন প্রতারণা সহ্য করতে না পেরে ভুক্তভোগি শাহ ইমরান বর্তমানে পাগলপ্রায়। তিনি প্রতারকদের বিচার চেয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগি শাহ ইমরান বলেন, ‘রাশিদা ও তার পরিবারের লোকজন অর্থলোভি, ভন্ড-প্রতারক। সরলতার সুযোগ নিয়ে রাশিদা আমার সাথে মারাত্মক প্রতারণা করেছে। ইতালির বলোনিয়া শহরের একটি নারী পাচারকারী ও আদম বেপারী চক্রের খপ্পরে পড়েছে সে আমার সংসার শেষ করে দিয়েছে। তার মা দেশের একটি নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠনের নারী নেত্রী। রাশিদা কর্তৃক প্রেরিত টাকায় সে ওই সংগঠনের অর্থ জোগান দিত বলে জানতে পেরেছি। আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতির সম্মখিন হওয়া সহ আমি মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছি। রাশিদা সহ যাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে একটি সাজানো সংসার তছনছ হয়ে গেছে, মুখোশ উম্মোচন সহ তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। আমি চাই দেশের প্রচলিত আইনে তাদের শাস্তি হোক। আমার মত আর যেন কাউকে নিঃস্ব হতে না হয়।’
এ ব্যাপারে বক্তব্য নেয়ার জন্য রাশিদার বাবা ওয়াদুদ খাঁন ও চাচা ইমরান খাঁনের মোবাইলে বারবার কল দিলেও তারা কল রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।