উপজেলা চেয়ারম্যানকে কটাক্ষ করে অধ্যক্ষের স্ট্যাটাস, ফেসবুকে তোলপাড়

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ মাস আগে

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদারকে ‘গাধা’ উল্লেখ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন কেশবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সালেহ উদ্দিন পিকু।

রমজানে আয়োজিত এক ইফতার পার্টিতে বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজকে নিয়ে বিষোদগার করেন আবদুল মোতালেব।

এর জবাবে অধ্যক্ষ সালেহ উদ্দিন পিকু বুধবার তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মোতালেব হাওলাদারকে নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

ওই স্ট্যাটাসে আবদুল মোতালেব হাওলাদারকে উদ্দেশ করে পিকু লেখেন— ‘একটি সাজানো বাগানকে নষ্ট করতে একটি গাধাই যথেষ্ট। আর সেই গাধা হলেন আপনি (মোতালেব হাওলাদার)।’

অধ্যক্ষ পিকুর এই স্ট্যাটাসের পর বাউফলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুল কবির নিশাত বলেন, ‘আজকের আবদুল মোতালেব হাওলাদার আমাদের নেতা আ স ম ফিরোজের হাতে তিল তিল করে গড়া। দল ক্ষমতায় আসার পর নিজের আখের গুছিয়ে তিনি এখন নেতার সঙ্গে বেঈমানি শুরু করেছেন। অর্থের মোহে তিনি পাগল হয়ে গেছেন। দলের আদর্শ ত্যাগ করে নেতার বিরুদ্ধে মনগড়া কল্পকাহিনি প্রচার করছেন। এটি কোনোভাবেই মেনে নেবেন না বাউফলের জনগণ।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম ফারুক বলেন, ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দলের ক্ষতি করতে চাইছেন মোতালেব হাওলাদার।

সময় থাকতে ভুল পথ থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে তাকে দলের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান ফারুক।

অধ্যাপক পিকুর সেই স্ট্যাটাস
অধ্যাপক পিকুর সেই স্ট্যাটাস

স্ট্যাটাস দেওয়ার কথা স্বীকার করে অধ্যক্ষ সালেহ উদ্দিন পিকু বলেন, ‘দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে আ স ম ফিরোজ দলীয় নেতাকার্মীদের নিয়ে যে বাগান সাজিয়েছেন, সেই বাগান নষ্ট করার জন্য তৎপরতা শুরু করেছেন মোতালেব হাওলাদার। এটা আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। তাই ওই স্ট্যাটাস দিয়েছি।’

এ প্রসঙ্গে বাউফল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদার বলেন, ‘বিগত দিনে উপজেলা আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন ত্যাগী নেতাকর্মীকে আ স ম ফিরোজ অবমূল্যায়ন করেছেন। এখন আমাকেও তিনি দল থেকে বিতাড়িত করতে চাইছেন। এটি হতে দেব না।’