কুমিল্লার প্রাইভেট হাসপাতালের আইসিইউতে কলেজ শিক্ষার্থীর শ্লীতাহানির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

কুমিল্লার এক প্রাইভেট হাসপাতালের আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) কলেজ শিক্ষার্থীর (১৭) শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে এক ওয়ার্ড বয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (১৮ নভেম্বর)দিবাগত রাতে। শনিবার হাসপাতাল থেকে ওই শিক্ষার্থী বাড়ি ফেরার পর আবার মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে রবিবার তাকে পূনরায় অন্য আরেকটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। রবিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এই অভিযোগ করেন ওই কলেজ ছাত্রীর বড় ভাই। ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ফেসবুক ব্যবহারকারী ও কুমিল্লার নেটিজেনদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় উঠে।

এই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শিক্ষার্থীর বড় ভাই ফেসবুকের ভিডিওতে ঘটনার বিচার দাবি করেন। ৭ মিনিট ৯ সেকেন্ডের ভিডিওতে তিনি বলেন, কুমিল্লা মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালের (কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালের) ঘটে যাওয়া এক ভয়ঙ্কর ঘটনা আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। শেষ রাতের দিকে আমার বোন যখন কান্নাকাটি করতে থাকে ভেতর থেকে আমাদের তার সাথে দেখা করতে বললে আমরা দেখা করতে যাই। তখন সে কান্না করতে করতে আমাদের জানায় দিপক নামের এক ওয়ার্ড বয় তার শরীরে একাধিকবার স্পর্শ করে। আমার পক্ষে আসলে এটা বর্ণনা করা সম্ভব নয়। তারপর আমরা ঘটনাটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানাই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যেন একটা দায়সারা ভাবে আছে। তারা এমন ভাব করছে যেন এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে আমরাই শুধু রিয়েক্ট করলাম। এসময় তিনি আরও বলেন ২০১৩ সাল থেকে এই দিপক চাকরি করছে। ২০১৩ সাল থেকে যদি দিপক আইসিইউতে থেকে থাকে তাহলে সে রেগুলারই এই কাজ গুলা করে গেছে। এই দিপকরা অন্য যেসকল হসপিটালে আছে আমার মা বোনেরা হয়তো তাদের অত্যাচার অনাচারের শিকার হচ্ছেন। তাই আমার এই ভিডিওর মাধ্যমে সতর্ক করাই মূল উদ্দ্যেশ্য।

ওই কলেজ শিক্ষার্থীর আরেক বড় ভাই নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, আমার বোন শুক্রবার অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে আমরা তাকে কুমিল্লা মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালের (টাওয়ার হাসপাতালের) ইমার্জেন্সি বিভাগে নিয়ে যাই। সেখানে একজন কর্তব্যরত চিকিৎসক আমাদের বলেন বোনকে যেন আইসিইউতে নিয়ে যাই। তখন আমরা ওই হাসপাতালের (কুমিল্লা মেডিকেল সেন্টার/টাওয়ার হাসপাতাল) আইসিইউতে নিয়ে যাই। সেখানে বিকেল থেকে পরদিন শনিবার সকাল পর্যন্ত ছিল সে। শেষ রাতের দিকে তার কান্নার কথা জানিয়ে দায়িত্বরতরা আমাদের ভেতরে যেতে দেন। ভেতরে গেলে সে আমাদের জানায় আইসিইউতে শেষ রাতের দিকে এক ব্যক্তি তার শরীরের বিভিন্নস্থানে স্পর্শ করে। তার নাম দিপক। সে ওই হাসপাতালের ওয়ার্ড বয়। এই কারণেই সেখানে অসুস্থ বোন আমার কান্না করছিল। সে আজ (রবিবার) আবার অসুস্থ হয়ে গেলে তাকে আবার হাসপাতালে নিতে হয়েছে। সে এই বিষয়টা মেনে নিতেই পারছে না।
তিনি আরও বলেন, কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালে আমরা অভিযোগ দিয়েছি। তারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছে এবং তারা নাকি তদন্ত কমিটিও করছে। অভিযুক্ত ওয়ার্ড বয় দ্বিপক চন্দ্র দাস কুমিল্লার চাপাপুর এলাকার বাজগড্ড গ্রামের অনিল চন্দ্র দাসের ছেলে।
ঘটনায় অভিযুক্ত দ্বিপক চন্দ্র দাসের মোবাইলে একাধিক কল দিলেও তার মোবাইল বন্ধ থাকায় কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
কুমিল্লা মেডিক্যাল সেন্টারের (টাওয়ার হাসপাতালের) ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এ ঘটনার পর অভিযুক্ত ওয়ার্ডবয়কে হাসপাতাল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যারা ওই সময় আইসিইউতে দায়িত্বরত ছিলেন সবাইকে শোকজ করা হয়েছে। আইসিইউতে ডাক্তার ও নার্স আলাদা রয়েছে। দীপক তাদের সাহায্যে নিয়োজিত ছিলেন।
এ বিষয়ে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহাম্মদ সনজুর মোর্শেদ জানান, এ ঘটনায় এখনও কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসেন বলেন, এ বিষয়ে রোগীর পক্ষ থেকে সরাসরি আমার কাছে কোন অভিযোগ করেনি। কিন্তু নানাজন থেকে বিষয়টি শুনেছি। আমি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব।