কুমিল্লায় অপরাধ দমনে নিরলস কাজ করছে ডিবি

জাহিদ হাসান নাইম
প্রকাশ: ৩ সপ্তাহ আগে

কুমিল্লা দেশের একটি সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এখানে মাদক, ছিনতাই, চোরাচালান, কিশোর গ্যাং এবং সব ধরনের অপরাধ প্রবণতা বেড়েই চলেছে। এ অঞ্চলে মাদকের ভয়াবহতা যুব সমাজকে গ্রাস করছে প্রতিনিয়ত। কুমিল্লাকে মাদকের ট্রানজিট বলা হয়ে থাকে। ভারতের পার্শ্ববর্তী জেলা হওয়ার কারণে মাদক ও চোরাচালান এবং আগ্নেয়াস্ত্র খুব সহজেই এখানে প্রবেশ করে। মাদক, চোরাচালান, আগ্নেয়াস্ত্র, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি এবং চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলাসহ বড় ধরনের অপরাধ ঠেকাতে কুমিলা জেলা ডিবি পুলিশ ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে।

বিশেষ করে নিষিদ্ধ সংগঠনের অপকর্ম ও জঙ্গি তৎপরতা দমনে জেলা ডিবি পুলিশের সাফল্য লক্ষণীয়। এছাড়া হত্যা মামলার রহস্য সমাধানে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১১ মাস পর্যন্ত শতাধিক মামলায় ৪৬৭ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা ডিবির রাজেশ বড়ুয়া জানান, জেলা ডিবি সূত্রে জানা যায় যে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ডিবি পুলিশের দায়ের করা মাদক মামলার আসামি ২৮২ জন, অস্ত্র মামলায় ২১ জন, ডাকাত দলের সদস্য ২৪, চোর ৩৯ জন ও অন্যান্য মামলায় ১০১ জনসহ মোট ৪৬৭ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় আটজন ভিকটিমকেও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে চৌকস ডিবির সদস্যরা।

এছাড়া জব্দ করা করা হয় – দেশি ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ১৫টি, পিস্তলের গুলি ৫৮টি, ম্যাগজিন ৫টি, ইয়াবা ট্যাবলেট ৪৭ হাজার ৩৮১ পিস, ট্যাপেন্ডাটোল ট্যাবলেট ২৮ হাজার ৫৬০ পিস, গাঁজা দু’হাজার ৩৪০ কেজি, ফেনসিডিল তিন হাজার ৩৬৫ বোতল, বিদেশি মদ ৫১৮ বোতল ও ইস্কাফ সিরাপ ৩৬২ বোতল। একইসাথে উদ্ধার করা হয় – মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত গাড়ি ৫০টি, চোরাই মোটরগাড়ি ৭০টি।

চোরাচালান হিসেবে জব্দ করা হয়েছে – নগদ এক কোটি ১৬ লাখ ৫০০ টাকা, স্বর্ণ ১০ ভরি ২ আনা, ইউএস ডলার পাঁচ হাজার ১১০ ডলার, জাল নোট এক লাখ টাকার, সরকারি বৈদ্যুতিক তার ২০০ কেজি ও দেশি প্রজাতির কাছিম ১৬টি। এছাড়াও বিভিন্ন থানা এলাকায় ডাকাতি, চুরি ও খুন মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান পিপিএম বার বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) ঢাকা মেইলকে বলেন, জেলার ক্রিটিক্যাল মামলাগুলো ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। বাসটার্মিনাল দখল নিয়ে আধিপত্য বিস্তার, আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, কিশোর গ্যাংয়ের হোতাদের আটকসহ কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ব্যাপক সফলতা রয়েছে। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, ফেনসিডিল, বিদেশি বিয়ার, স্কার্ফসহ সব ধরনের মাদক, জাল নোট, ডলার, ভারত থেকে আসা চোরাই শাড়ি, থ্রিপিস, চোরাই মোবাইল উদ্ধার, আগ্নেয়াস্ত্র এবং আরও অন্যান্য মালামাল জব্দ করে বিশেষ সফলতা অর্জন করেছে ডিবি। কুমিল্লার বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতারে জেলা গোয়েন্দা সংস্থা ডিবির ব্যাপক সাফল্য রয়েছে।

কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজেশ বড়ুয়া বলেন, পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে জেলার সাধারণ মানুষের জান-মাল ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ডিবি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে যেকোনো প্রকার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে ডিবি আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ডিবির এ সাফল্য আগামীতেও বহাল থাকবে।