কুমিল্লায় কোরবানী যোগ্য গরু অভাব না থাকলেও ব্যবসায়ীদের চিন্তা সীমান্তের সঠিক পাহাড়া নিয়ে

# কুমিল্লায় কোরবানী যোগ্য পশু রয়েছে লাখ ২৯ হাজার ৯৮টি # চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৪৯২টি # উদ্বৃত্ত থাকবে ৮৬ হাজার ৭টি পশু # ভারত ও মিয়ানমারের গরু সীমান্তে আটকে দিতে হবে
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুমিল্লার খামারিরা প্রস্তত। চাহিদার অতিরিক্ত পশু রয়েছে তাদের কাছে। তবে ভারত ও মিয়ানমার থেকে বৈধ ও অবৈধপথে পশু আসার আতঙ্কে রয়েছেন তারা। গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার পশু পালনে খরচ বেশি হচ্ছে। এর মধ্যে ভারত ও মিয়ানমারের গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করলে খামারিদের লোকসানে পড়তে হবে। এ অবস্থায় সীমান্ত পথে গরু আসা বন্ধে কঠিন নজরদারি ও সরকারের আন্তরিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন খামারিরা।
খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলার প্রায় ১০৫ কিলোমিটার এলাকায় ভারতীয় সীমান্ত। এছাড়াও পাশের জেলাগুলোর সঙ্গেও ভারতের সীমান্ত রয়েছে। এই সীমান্ত দিয়ে প্রতিবছর কোরবানি উপলক্ষে অবৈধভাবে পশু প্রবেশ করে। যে কারণে খামারিদের খরচের তুলনায় কম দামে গরু-ছাগল বিক্রি করতে হয়।
কুমিল্লায় খামারি রয়েছেন প্রায় অর্ধ শতাধিক। একেকজন খামারি গরু ও ছাগল পালনে বিনিয়োগ করেছেন কোটি টাকা। কুমিল্লার দক্ষিণ চর্থা বড় পুকুর পাড়ে জাহানারা এগ্রো ফার্ম ও নগরীর রাজাপাড়া ধনিশ^র এলাকায় শাহজাহান এগ্রো ফার্মে গরু রয়েছে প্রায় ৫০টি কোরবানির উপযোগী গরু। এখানে একেকটি গরুর মূল্য হাঁকানো হচ্ছে ১ লাখ থেকে দশ লাখ টাকা।
দক্ষিণ চর্থা বড় পুকুর পাড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনে জাহানারা এগ্রো ফার্মের মালিক নজরুল ইসলাম রিপন বলেন, এবছর খৈল, ভূষি ও গরুর দানাদার খাদ্যে ব্যাপক দাম বেড়েছে। অপেক্ষা করতেছি বাজার পরিস্থিতির জন্য। মূল্য ভাল না হলে পথে বসতে হবে। তিনি বলেন, সকল দুশ্চিন্তা ভারতীয় ও মিয়ানমার গরু নিয়ে। দেখা যায় হঠাৎ করে বানের জলের মতো বাজারে ভারতীয় ও মিয়ানমার গরু প্রবেশ করে। ভারতী ও মিয়ানমার গরু না আসলে আমরা খামারিরা ভাল দাম পাবো বলে প্রত্যাশা করি।
নগরীর রাজাপাড়া ধনিশ^র এলাকার শাহজাহান এগ্রো ফার্মের মালিক আশিকুর রহমান জাবেদ বলেন, গরু কিনে সারা বছর লালন-পালন করি। যখন কোরবানির ঈদ আসার ছয় থেকে সাত মাস বাকি থাকে, ওই সময় গো-খাদ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এরপরও লাভের আশায় বেশি দামেই খাবার কিনে গরুকে খাওয়াই। খরচ বেড়ে যাওয়ায় গরুর দামও সে অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হয়। তবে ভারতীয় গরু এলে আমাদের সব শ্রম ও খরচই বৃথা যায়। লোকসানে গরু বিক্রি করতে বাধ্য হই।
জেলার খামারিদের সংগঠন ডেইরি অ্যাসোসিয়েশন কুমিল্লার সভাপতি ফরহাদ হোসেন বলেন, আমরা একটি বছর পশু পালন করে স্বপ্ন দেখি। আর চোরাইভাবে ভারতীয় গরু এনে আমাদের স্বপ্ন নষ্ট করে। এ বিষয়ে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে। তা না হলে আমরা শেষ। অনেক নতুন উদ্যোক্তা আছেন, তারা ধারদেনা করে খামার গড়েছেন। কোরবানির হাটে যদি তাদের গরু-ছাগল ভালো দামে বিক্রি না হয় তাহলে তারা নিঃস্ব হয়ে যাবেন।
খামারিদের এই নেতা আরও বলেন, শুধু ভারতীয় গরু প্রবেশ ঠেকালেই হবে না। সড়কে চাঁদাবাজি, বেশি দামে টোল আদায়, পরিবহনে বেশি ব্যয় ও ছিনতাইয়ের কারণেও অনেক খামারি প্রতি বছর নিঃস্ব হচ্ছেন। এখন পর্যন্ত এমন কোনও ঘটনা এ বছর ঘটেনি। তবে আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই, যেন খামারিদের কোনও ক্ষতি না হয়।
কুমিল্লার অতিরিক্তি জেলা প্রণী সম্পদ র্কমর্কতা ডা. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, জেলায় এ বছর ৩৩,৯৩৭টি খামারে কোরবানী যোগ্য ২ লাখ ২৯ হাজার ৯৮টি পশু রয়েছে। এর মধ্যে চাহিদা ১ লাখ ২০ হাজার ৪৯২টি। উদ্বৃত্ত থাকে ৮৬ হাজার ৭টি পশু।
প্রসঙ্গত, কুমিল্লায় স্থায়ী পশুর হাট আছে ৭৫টি। এ পর্যন্ত অস্থায়ী হাটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে প্রায় ৩৭৯টি। নির্ধারিত হাসিল প্রতি ১ টাকায় ১১ পয়সা। এর বাইরে জেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ উদ্ভাবিত ‘অনলাইন পশুর হাট’-এ পশুর বেচাকেনাকে উৎসাহিত করা হয়।