কুমিল্লায় ৫০ শতক ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে আশ্রয়ন প্রকল্প স্থাপনের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার চৌয়ারা ইউনিয়নের হেমজোড়া গ্রামের প্রায় ৫০ শতক ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি জোর করে খাস খতিয়ানভুক্ত দেখিয়ে আশ্রয়ন প্রকল্প স্থাপনের অভিযোগ করেছেন জমির মালিক দাবীদার ২২জন গ্রামবাসী। এ বিষয়ে কুমিল্লা জজ আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন থাকার পরও চলছে আশ্রয়ন প্রকল্প নির্মাণ কার্যক্রম।
ভূমিহীনদের স্থায়ী ঠিকানা ও মাথা গোজার জায়গা দিতে এই ২২ পরিবারের জীবনের সকল সঞ্চয় দিয়ে গড়া মাথা গোজার শেষ আশ্রয় টুকু হারানোর শংকায় অনাহার অর্ধাহারে দিন কাটছে তাদের।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, হেমজোড়া মৌজার হালে ৭৩ দাগ ও সাবেক ৭০ দাগের প্রায় ৫০ শতক জমির পাট্টা মালিক ছিলেন মরহুম জীবন আলী।
হেমজোড়া গ্রামের জীবন আলীর ছেলে মহরম আলী, ওমর আলী, কোমর আলী ও জীবন আলীর ভাতিজা হারিধন, হয়েজ উদ্দিন ১৯১৫ সালে চতুর্থ মুন্সেফ কোর্টের রায়ে ৭০ ও ৬৯ দাগের মালিক হন। তাদের ওয়ারিসে জমি গুলো কিনে নেন গ্রামের ২২ জন অধিবাসী। জমির মালিক হওয়ার পর সরকারকে ১২ টাকা ১০ আনা খাজনা ১৯৭০ সাল পর্যন্ত দেন। পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান খাজনা মাপ করে দেওয়ার কারনে আর খাজনা দেওয়া হয়নি। গত বছর মালিক পক্ষ জানতে পারে জায়গাটি সরকারের দখলে রয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে মালিক পক্ষ থেকে সরকারের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।
এরই মধ্যে গত ২ মাস আগে স্থানীয় তহশীলদারকে সাথে নিয়ে জমি গুলো পরিদর্শন করেন সদর দক্ষিণ উপজেলার নির্বাহী অফিসার শুভাশিস ঘোষ ও সদর দক্ষিণ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুর রহমান। পরের দিন থেকে সেখানে শুরু হয়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়িঘর নির্মাণের কাজ।
ভুক্তভোগী মালিকরা বলেন, তারা তাদের জীবনের সকল সঞ্চয় দিয়ে গড়া মাথা গোজার শেষ আশ্রয় টুকু হারাতে চান না। মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা এই আশ্রয়ণ প্রকল্প তৈরীর কাজ বন্ধ রাখার দাবী জানিয়েছেন। মাথা গোজার শেষ আশ্রয় টুকু হারানোর শংকায় এসময় গ্রামের সাধারণ নারী পুরুষদের কান্নায় পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।
ভুক্তভোগী গিয়াস উদ্দিন বলেছেন, আমাদের ৫০ শতক জমিকে সরকার খাস খতিয়ান ভুক্ত দেখিয়ে দখল করে নেওয়াই বিএস এর বিরুদ্ধে দেওয়ানী মামলা দেওয়ার পরও সরকারি লোক এখানে আশ্রয়ন প্রকল্পের কাজ করতেছে।
এ ব্যাপারে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) আবদুর রহমান জানান, এই জায়গা ১৯৯১/৯২ সালে ওই জমি সরকারের নামে খাস খতিয়ানভূক্ত করে। এখন রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সরকার এসব জমিতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভূক্তভোগীরা আদালতে মামলা করেছেন।আদালতের সিদ্ধান্ত আদালত যখন দিবে তখন আমরা দেখব।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম জানান, সরকার কারও জায়গা দখল করে না। সরকারের প্রয়োজন হলে সরকার ক্রয় করে নেয়। ব্যক্তিমালিকানা হলে কোর্টের বিষয় কোর্ট দেখবে।