কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে কিশোর গ্যাং লিডার সিফাত ও জিসান গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ

আহত ৭ আটক ১ আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, কলেজ জুড়ে আতঙ্ক
সোহাইবুল ইসলাম সোহাগ।।
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে সংঘর্ষে ৭ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এর মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।তার মাথায় দায়ের একাধিক আঘাত রয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা ঘটে। এ সময় কলেজ জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
গতকাল রোববার (১৯ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে কলেজের কান্দিরপাড় উচ্চ মাধ্যমিক শাখায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আহতরা হলেন মোস্তাফিজুর রহমান, অনয় দেবনাথ, মো. মাহিন ও মো. রিজভীসহ ৭জন। তারা কুমিল্লার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী। তারা সবাই কিশোর গ্যাংয়ের একাধিক গ্রুপের সাথে জড়িত।

জানা গেছে, সকাল ১১টার পর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী জিসান ও ফাহাদের সঙ্গে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীন সিফাতের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সিফাত, ফাহাদের উপর হামলা করে এবং জিসানকে মারধরের হুমকি দেয়। এরপর দুজনের মধ্যে মারামারি হলে সিফাত তার বন্ধুদের ডেকে আনে। পরে দুপুর ১২টার কিছু পর, কলেজ ছুটির সময় সিফাত ধারালো অস্ত্র নিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।
ঘটনার একটি ১২ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, এক তরুণ হাতে রামদা নিয়ে অন্যদের দৌঁড়াচ্ছে এবং অন্য একজনের হাতে পিস্তল দেখা যায়, যদিও তার চেহারা স্পষ্ট নয়। ধারণা করা হচ্ছে, ভিডিওতে দেখা তরুণ সিফাত।

আহত চারজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বাসার ভূঁঞা বলেন, এ ঘটনায় পর কলেজ শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যতটুকু জেনেছি আহতদের কেউ ভিক্টোরিয়া কলেজের নয়। তবে ভিক্টোরিয়া কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবো। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় ইতোমধ্যেই আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের জানানোর ব্যবস্থা করছি।
এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মইনুল ইসলাম জানান, ভিক্টোরিয়া কলেজে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ৬/৭ জন আহত হয়েছে। শুনেছি তারা কিশোর গ্যাংয়ের সাথে জড়িত। এর মধ্যে আমরা সিফাত নামক একজনকে গ্রেফতার করেছি। বাকীদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে ।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ সাইফুল মালিক বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে জেনেই পুলিশ পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।