কুমেক হাসপাতালে ওটির সামনে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, মারা গেল রোগী 

আহত রোগীর ছেলেসহ আরো তিনজন
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ মাস আগে

বুধবার তখন রাত। ওই সময় পায়ে অস্ত্রোপচার চলছিল শিরিন বেগমের। ঠিক তখই অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর মারা যান রোগী। বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন অপারেশন থিয়েটারের সামনে থাকা ওই রোগীর ছেলেসহ আরো তিনজন।

ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের সামনে। ওই রোগীর স্বজনদের দাবি, বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কিত হয়ে চিকিৎসকরা রোগীর কাটা পা সেলাই না করেই ব্যান্ডেজ লাগিয়ে চলে যান। এতে রক্তক্ষরণে ওই মারা যান রোগী।

৫২ বছর বয়সী শিরিন বেগম কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার শীলমুড়ি ইউনিয়নের ফলকামুড়া গ্রামের তাজুল ইসলামের স্ত্রী। বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটলেও বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানিয়েছেন মৃতের স্বজনরা।

নিহত শিরিন বেগমের ছেলে সাইফুল ইসলাম বলেন, শনিবার মাকে ডায়াবেটিস হাসপাতালে নিয়ে যাই। পায়ে ইনফেকশন থাকায় চিকিৎসক বলেছেন, মাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে। রোববার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করাই। বুধবার চিকিৎসক বলেন, মায়ের পা কেটে ফেলতে হবে। রাতেই তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। ওই সময় আমাকে চিকিৎসকের সহযোগীরা বলেন, বাইরে থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে আনতে। ৭০০ টাকা দিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে আনলাম। কিন্তু সিলিন্ডার থেকে অক্সিজেন সাপ্লাই হচ্ছিল না। তাই অ্যাম্বুলেন্সচালক ও তার সহযোগী মিলে ঠিক করছিলেন। এ সময় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অপারেশন থিয়েটার অন্ধকার হয়ে যায়। বিস্ফোরণে আমার দুই হাত ও মুখ ঝলসে যায়। অ্যাম্বুলেন্সচালক ও তার সহযোগী আহত হন। তখন অপারেশন থিয়েটারে মায়ের পা সেলাই না করে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে চলে যান চিকিৎসকরা। এ অবস্থায় রক্তক্ষরণে আমার মা মারা গেছেন।

তিনি আরো বলেন, সরকারি সিলিন্ডার থাকার পরও তারা আমাকে বাইরে থেকে কিনে আনতে বললেন। ওই সিলিন্ডার বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তাড়াহুড়ো করে সেলাই না দিয়ে ব্যান্ডেজ করেই চলে যান চিকিৎসকরা। মায়ের পা সেলাই করলে তিনি হয়তো বেঁচে যেতেন।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাজেদা খাতুন বলেন, অক্সিজেন সিলিন্ডারটি বাইরে থেকে এনেছেন রোগীর স্বজনরা। তারা সিলিন্ডারের মুখ খোলার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এতে চিকিৎসক-নার্স আহত হননি। ঘটনাটি ঘটেছে অপারেশন থিয়েটারের সামনে। আহত অ্যাম্বুলেন্সচালককে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভতি করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা আছে। তাহলে হাসপাতালে কর্মরতরা বাইরে কেন সিলিন্ডারের জন্য পাঠাবেন। স্বজনরাই সিলিন্ডার নিয়ে এসেছেন। ওই রোগী গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। তাই তাকে দ্রুত আইসিইউতে নেয়া হয়েছিল। সেখানে মারা গেছেন ওই রোগী।