চৌদ্দগ্রামে কামরুল হুদার নেতৃত্বে উজ্জীবিত বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা

৪ স্পটে রোডমার্চকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত অর্ধলাখ নেতাকর্মী
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

চৌদ্দগ্রাম  প্রতিনিধি ।।
শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও সংসদ বিলুপ্ত, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও আ’লীগ সরকার পতনের এক দফা দাবিতে ৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে রোডমার্চ কর্মসূচি ঘোষণার পর উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ইতোমধ্যে রোডমার্চ সফল করার লক্ষ্যে কুমিল্লা, ফেনী ও চট্টগ্রামে একাধিক প্রস্তুতি সভা করেছে বিএনপি। চৌদ্দগ্রাম পৌরসভাসহ উপজেলার ১৩ ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে পৃথক প্রস্তুতি সভা, মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা ও মাইকিং করা হয়েছে। মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামের ৪৩ কিলোমিটার এলাকায় চট্টগ্রামমুখী সড়কে লাগানো হয়েছে ব্যানার ও পেষ্টুন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দের সাথে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করছেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএপির যুগ্ম আহবায়ক ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ কামরুল হুদা। কারানির্যাতিত ও দক্ষ সংগঠক কামরুল হুদার নেতৃত্বে মহাসড়কের মিয়াবাজারে উজিরপুর, শুভপুর, কালিকাপুর, কাশিনগর ও শ্রীপুর ইউনিয়নের নেতাকর্মী, চৌদ্দগ্রাম বাজারে পৌরসভা, মুন্সিরহাট ও ঘোলপাশা ইউনিয়নের নেতাকর্মী, বাতিসা রাস্তার মাথায় বাতিসা ও কনকাপৈত ইউনিয়নের নেতাকর্মী এবং চিওড়া রাস্তার মাথায় চিওড়া, জগন্নাথ, গুণবতী ও আলকরা ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের অর্ধ লাখ নেতাকর্মী জড়ো হয়ে রোডমার্চকে স্বাগত জানাবে। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলম রাজু বুধবার তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে আ’লীগ সরকার নানা ধরনের অত্যাচার-নির্যাতন করেই যাচ্ছে। সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় আছে। আবারও তারা অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসতে চায়। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটক রেখেছে। তিনি ভীষণ অসুস্থ হয়েও প্রাপ্য চিকিৎসা পাচ্ছেন না। নেত্রীকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এটা এই সরকারের নীল নকশা। শেখ হাসিনার এই নীল নকশা বাস্তবায়ন হতে দেব না। তৃণমূল রাজনীতির জনক, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা রাজপথে থেকেই সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব। আমরা রাজপথে নেমেছি, এই সরকারের পতন না ঘটিয়ে ঘরে ফিরে যাব না’।
উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি রোডমার্চ সফল করতে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ও পৌরসভাসহ বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দফায় দফায় মিটিং করে প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী সড়কে ব্যানার ও পেষ্টুন লাগানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও চলছে প্রচারণা। বিএনপি নেতাকর্মীদের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জনগণকে সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন ইউনিয়নে মাইকিং ও মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা করা হয়েছে। জনগণ রোডমার্চকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ কামরুল হুদার নেতৃত্বে স্মরণকালের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
উপজেলা যুবদলের আহবায়ক জামাল উদ্দিন মামুন বলেন, ‘বর্তমানে জনগণের অবস্থান একদিকে আর ভোট চোরেরা আরেকদিকে। ভোট চোরের আস্তানা গুড়িয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে সরকারের পতন ঘটিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত রাজপথে থাকতে প্রস্তুত বিএনপি-যুবদলসহ অঙ্গ সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী’।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ কামরুল হুদা বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামের ৪৩ কিলোমিটার এলাকায় রোডমার্চে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের অর্ধলাখ নেতাকর্মী জড়ো হবে। তৃণমূল রাজনীতির জনক তারেক রহমানের নির্দেশে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সারাদেশে রোডমার্চের মাধ্যমে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে। তারা আন্দোলন সফল না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা বুঝতে পেরেছি সাধারণ মানুষ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। এছাড়া একদফার দাবির প্রতি তারা জোড়ালোভাবে সমর্থন জানিয়েছে। সাধারণ জনগণ আমাদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়েছে, সমর্থন দিচ্ছে। তাদেরকে সঙ্গে নিয়েই এক দফা আন্দোলনের মাধ্যমে এই অনির্বাচিত লুটেরা সরকারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করব। এটি আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্যই রোডমার্চের মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করছি’।