কুমিল্লায় প্রি-পেইড মিটারে ১৭শ টাকার বিদ্যুত বিল ১২ হাজার টাকা

জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় বিক্ষুদ্ধ কর্মকর্তারা
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১ মাস আগে

# পাঁচগুণ বিল বেশী কর্তনের অভিযোগ 

# ১৭শ টাকার বিদ্যুত বিল প্রিপেইড মিটারে ১২ হাজার টাকা 

#সরকারি এক দপ্তরের বিরুদ্ধে অন্য দপ্তরের অভিযোগ

 

আবু সুফিয়ান রাসেল।।

প্রিপেইড মিটারে পাঁচগুণ বিল বেশী কর্তনের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যুৎ বিভাগের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় বিদ্যুতের বিভাগেরর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন খোদ সরকারি কর্মকর্তারা। ১৭শ টাকার বিল নতুন মিটারে ১২ হাজার টাকা পরিশোধ করেছে সরকারি এক দপ্তর। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলছেন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।গতকাল রোববার জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমান।

গতকাল ২১ এপ্রিল রোববার জেলা প্রশাসনের মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপ-পরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান বলেন, আমার অফিসে পূর্বে মাসে গড় ১ হাজার ৭৩১ টাকা বিদ্যুৎ বিলে পরিশোধ করতাম।
গত ৩৩ দিনে প্রিপেইড মিটারে ১২ হাজার ২০০ টাকা বিদ্যুত বিল নেওয়ার হয়েছে। এ বিষয়টি সকল গ্রাহকরা ভোগ করছে। এটার কারণ জানাবেন।

অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোন কথা বলেন নি, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কুমিল্লা-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শহীদুল ইসলাম।
অভিযোগের পূর্বে কুমিল্লায় লোডশেডিং বাড়বে বলে সবাইকে সতর্ক করেন। অফিসে অফিসে আই.পি.এস রাখার পরামর্শ দেন এ প্রকৌশলী। তিনি আরো বলেন, পল্লী বিদ্যুতের তুলনায় কুমিল্লা শহরের মানুষ ভালো আছে।

গতকাল সন্ধ্যায় অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শহীদুল ইসলামের নম্বরে একাধিক কল ও ক্ষুদেবার্তা দিয়েও কথা বলা যায়নি।

বিষয়টি নিয়ে দপ্তরের লাইনম্যান মো. ইলিয়াস ফোন রিসিভ করে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

লিখিত অভিযোগে দেখা যায়, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কুমিল্লার গত সেপ্টেম্বর মাসের বিল ২ হাজার ৮৩৮, অক্টোবর মাসে ১৮৮১, নভেম্বর মাসে ১৭৪৫, ডিসেম্বর মাসে ১৫৫৭, জানুয়ারি মাসে ১৪০৬, ফেব্রুয়ারি মাসে ১৯৩৪ টাকা পোস্টপেইড মিটার বিল পরিশোধ করা হয়। নতুন মিটার চালুর পর গত ৩৩ দিনে ১২ হাজার ২০০ টাকা বিল পরিশোধ করেছেন এ কার্যালয়ের উপ-পরিচালক। বিষয়টি নিয়ে তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন ২১নং ওয়ার্ডের সচিব মো. কাউছার বলেন, কিলো অনুযায়ী অতিরিক্ত টাকা কর্তন করে নিয়ে যায়। আমি গতকাল বাসার চারটি প্রিপেইড মিটারে টাকা পরিশোধ করেছি। ৩০০০ টাকা থেকে ২৭৪৭ টাকা, অন্যটিতে ১৯৮০ টাকা থেকে ১৭৭০ টাকা, অপরটিতে ৩০০ টাকা থেকে ২৭০ টাকা, অপর এক মিটারে ২০০০ টাকা থেকে ১৭৯০ টাকা হিসাবে পেয়েছি।

সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।