ঢাকায় বিএনপির কর্মসূচিতে আহত ৫০০, গ্রেফতার ১২৪: রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ মাস আগে

রাজধানী ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে বিএনপির ৫শ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। পাশাপাশি বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ১২৪ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

রিজভী বলেন, শুক্রবার ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশে মানুষের বাঁধভাঙা ঢলে ক্ষমতাসীনদের হিংসা বেড়েছে। তাই গতকালের মহাসমাবেশ থেকে ঘোষিত আজকের অবস্থান কর্মসূচিকে তারা রক্তের হোলি খেলায় পরিণত করেছে। বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে উপস্থিত হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাঁড়াশি আক্রমণ শুরু করে। তাদের সাথে যোগ দেয় সরকারদলীয় ক্যাডাররা।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ব্যাপক গুলিবর্ষণ, অজস্র কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ ও বেপরোয়া লাঠিচার্জে অগণিত নেতাকর্মীকে গুরুতর আহত করা হয়। এই নারকীয় আক্রমণের হাত থেকে রেহাই পাননি দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তাকে রাস্তায় ফেলে মাথায় ও হাতে-পায়ে নির্দয়ভাবে আঘাত করা হয়।

তিনি বলেন, গাবতলীর অবস্থান কর্মসূচি থেকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক মন্ত্রী আমান উল্লাহ আমানকে টেনে হিঁচড়ে পুলিশ আটক করে। আঘাত ও করতে গ্রেফতার করা হয় কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদকে। আজ পুলিশ এবং আওয়ামী ক্যাডারদের যৌথ অ্যাকশনে জুলুম—নিপীড়নের আরেক নৃশংস অধ্যায় রচিত হলো।

রিজভী বলেন, আজকের অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আহত হয়েছেন ৫০০ জন এবং গ্রেফতার করা হয়েছে ১২৪ জনকে। গত ১৯ মে থেকে আজ পর্যন্ত বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সারাদেশের প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী মোট মামলা ৩২০টি, মোট গ্রেফতার এক হাজার ৫১৪ জন, মোট আসামি এক হাজার ৪৫০ জনের অধিক নেতাকর্মী।

তিনি বলেন, আওয়ামী সরকারের পদে পদে ব্যর্থতা। দুর্নীতি, গুম, হত্যা, লাখো কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পাচার- সবক্ষেত্রেই তারা এক নম্বর। দেশের সম্পদ লুণ্ঠনের পথ খুলে দেওয়ার উদ্দেশ্য- এসব সম্পদ যেন আওয়ামী নেতাকর্মীদের পকেটে গিয়ে জমা হয়। দিনকে দিন বিএনপির সমাবেশে, মিছিলে অসংখ্য মানুষ যোগ দিচ্ছে। এতে সরকার ভীত হয়ে পড়েছে। আর এজন্য বিএনপির কর্মসূচিতে জুলুমের গতি বাড়িয়ে দিয়েছে। বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে নিরীহ নেতাকর্মীকে বেছে বেছে খুন, জখম করার পরও এদের কখনোই শাস্তি হয়নি বলে এরা সহিংস কার্যকলাপ চালাতে উৎসাহিত হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, আজকের অবস্থান কর্মসূচির বিষয়ে পুলিশকে অবহিত করা হলেও পুলিশ তা অগ্রাহ্য করে প্রধানমন্ত্রীর মনতুষ্টির জন্য দমনের যে ভয়ঙ্কর রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে তা নজিরবিহীন। বৃষ্টির মতো গুলিবর্ষণ এবং বেধড়ক লাঠিচার্জের মাধ্যমে শারীরিক ক্ষতি ও নির্বিচারে গ্রেফতারের যে হিড়িক দেখা গেলো তা আওয়ামী অবৈধ কতৃর্পক্ষের এক নির্লজ্জ নাৎসি রূপের হিংস্র বহিঃপ্রকাশ। আজ শনিরআখড়া, মাতুয়াইল, ধোলাইখাল, গাবতলী, উত্তরা, আব্দুল্লাপুর, সাইনবোর্ড এলাকা ছিল রক্তাক্ত প্রান্তর। অসংখ্য গুরুতর আহত নেতাকর্মী এখন হাসপাতালে হাসপাতালে কিংবা বাসাবাড়িতে কাতরাচ্ছেন। আহত নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের জন্য হাসপাতালেও হানা দিচ্ছে পুলিশ।

তিনি বলেন, আজকে ঢাকার প্রবেশ পথে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি ছিল এক দফার চলমান আন্দোলনের কর্মসূচি। শেখ হাসিনার পদত্যাগসহ নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠার এক দফা আন্দোলন এখন জনগণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। কারণ সংবিধান থেকে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা মুছে দিয়ে শেখ হাসিনা ভোটারদের প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। সারাদেশের মানুষ অংশগ্রহণ করছে এক দফার আন্দোলনের নানা কর্মসূচিতে।

এসময় রিজভী বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানান। একই সঙ্গে গ্রেফতার সব নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি ও আহত নেতাকর্মীদের আশু সুস্থতা কামনা করেন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের হামলায় গুরুতর আহত হন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি আবু আশফাক, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখওয়াত হোসেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হন। এছাড়াও আজ উত্তরায় বিএনপির দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচিতে ছাত্রদল সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের নেতৃত্বে বিকেল ৪টায় মিছিল করে ছাত্রদল। ছাত্রদল নেতাকর্মীরা রাস্তা অবরোধ করে মিছিল করতে থাকলে পুলিশ হামলা চালায়। ফলে বিক্ষুব্ধ মুক্তিকামী জনতা বেশকিছু গাড়ি ও বাস ভাংচুর করে। এসময় অনেকের মধ্যে ব্যাপকভাবে আহত হন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ মো. সোহরাব হোসেন সুজনসহ বেশকিছু নেতাকর্মী।

রিজভী বলেন, আজকের এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক উদরাতুল বারি আবু, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আফসান ইয়াহিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এসময় বিভিন্ন স্থানের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন ও হামলার চিত্র তুলে ধরেন তিনি।

এদিক, আজ দিনব্যাপী সচিত্র সংবাদ সংগ্রহকালে দায়িত্বরত সাংবাদিকরাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের হামলা থেকে রেহাই পায়নি বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।