তিতাসে যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার একজন শ্যুটারসহ ২ জন গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

কুমিল্লার তিতাস উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল হোসেন (৪০) হত্যার ১০ দিন পর ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে বোরকা পরিহিতদের মধ্যে ১ জন শ্যুটারসহ দুইজনকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বুধবার (১০ই মে) সকালে কুমিল্লা নগরীর শাকতলা র‌্যাব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য বলেন র‌্যাব-১১ কোম্পানি অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন, কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার চর চারুয়া এলাকার মৃত জাহেদ আলীর ছেলে মোঃ দেলোয়ার হোসেন দেলু (৩১) ও তিতাস থানার বড় গাজীপুর এলাকার মোঃ ফজলুল হকের ছেলে মোঃ সাহিদুল ইসলাম (সাদ্দাম মাষ্টার) (৩৩)।
মেজর সাকিব বলেন, হত্যাকান্ডে বোরকা পরিহিত তিনজন হত্যাকারীর একজন ছিলো এই দেলোয়ার হোসেন দেলু ও আসামীদের দেশের ভিতরে ও বাহিরে পলায়ন করার পথ তৈরী করে দিয়েছিলো সাহিদুল ইসলাম। আর বোরকা পরিহিত আরো ২ জনকে আমরা চিহ্নিত করেছি। তারা ছিলো কালা মুনির ও আরিফ। তাদের মধ্যে আরিফ নেপালে অবস্থান করেছেন বলে জানা যায় ও কালা মুনির দেশের বাহিরে অবৈধ পথে পালিয়ে যেতে পারে।
তিনি আরো বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামী দেলোয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আমরা জানতে পেরেছি, তাকে কালা মুনির ও আরিফ টাকার প্রলোভন দেখিয়েছিলো ও তারা সম্পূর্ণ পরিকল্পনানুযায়ী কাজ করেছিলো। দেলোয়ার পালিয়ে ছিলো সোনারগাঁওয়ে তার বোনের বাসায়। সে বোনের বাসা থেকে বাকী টাকা নিতে ঢাকার যাত্রাবাড়ি যাওয়ার পথে আমরা তাকে গ্রেফতার করি। তার থেকে পাওয়া তথ্যমতে আমরা সাদ্দামকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। এই কিলিং মিশনে তাদের সব জায়গায় লোক ঠিক করা ছিলো। কে কোন কাজে সাহায্য করবে তা নির্ধারণ করা ছিলো। ঘটনায় অস্ত্র সরবরাহ করে আরিফ। আমরা সব আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা করে যাচ্ছি।
গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ দেলোয়ার হোসেন দেলু এর বিরুদ্ধে ২ টি হত্যা মামলা সহ মোট ৬ টি মামলা রয়েছে। আসামী সাহিদুল ইসলাম তিতাসের ইঞ্জিনিয়ার হারুন ইর রশিদ গার্লস কলেজের আইসিটি বিষয়ের শিক্ষক ছিলো।
গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়কে দাউদকান্দি থানায় হস্তান্তর করা হচ্ছে বলে জাানান র‌্যাব।।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে গৌরীপুর পশ্চিম বাজার ঈদগাঁ এলাকায় সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। এতে জামাল হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. মোয়াজ্জেম আহমেদ তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে নিহত জামালের স্ত্রী বাদী হয়ে ৯ জন এজহারনামী আসামী ও ৮ জনকে অজ্ঞাতনামা করে ১৭ জনের বিরুদ্ধে দাউদকান্দি থানায় মামলা দায়ের করে।