প্লাবিত হওয়ার পথে গোমতী নদী তলিয়ে যাচ্ছে কোটি টাকার সবজি

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

টানা কয়েকদিনের বৃষ্টি আর উজানের ঢলে তলিয়ে গেছে গোমতীচরের কয়েক কোটি টাকা মূল্যের সবজি। আর কিছু দিন অতিবাহিত হলে চরের এই সবজি বাজারজাত করতেন কৃষকরা। চোখের সামনে বিনিয়োগ করা পুঁজি পানির নিচে চলে যাওয়া দেখে হা-হুতাশ করা ছাড়া কোন উপায় নেই।
জেলার বুড়িচং উপজেলার ভান্তি এলাকায় গোমতীর গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ডুবে যাওয়া সবজি ক্ষেতে মুলা তুলতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন সফিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, ৪০ শতক জমিতে মুলা চাষ করেছেন। তার ব্যয় হয়েছে ২০ হাজার টাকা। তার মধ্যে ওই এলাকায় আরো অন্তত ২০ জন কৃষক চরে মুলা ঢেড়শ, পুইশাক, লাউ, চাল কুমড়ো, চিচিঙ্গা, বরবটি চাষ করেছেন। গত তিন দিনের বৃষ্টি আর উজানের ঢলে গোমতীর চরে তাদের ফসল তলিয়ে যায়।
আদর্শ সদর উপজেলার জালুয়াপাড়া ও সুবর্ণপুর এলাকার কৃষক লালমিয়া ও হোসেন মিয়া বলেন ২০০ শতক জমিতে শসা চাষ করেছেন। এতে তার বিনিয়োগ ছিলো ৮০ হাজার টাকা। তার মতো নদীর ওই চরে আরো অন্তত কুড়িজন কৃষক শসা চাষ করেছেন। সবার শসার মাচা পানিতে তলিয়ে গেছে।
হোসেন মিয়া বলেন, কি আর কমু। রাইতে মেঘ অইলে কইলজাডা মোচড় দিতো। যতবার মেঘ অইছে আল্লা আল্লাহ করছি। সব ভাইসা গেছে। কি করতাম বছতাছি না। ঋণ লইছি অহণ ঋণের টেকা কেমনে দেমু।
মাথায় হাত দিয়ে আফসো করতে করতে আবদুল গফুর বলেন, একটা সপ্তাহ গেলে চাউল কুমড়াডি বেছতাম পারতাম। দুই কানি (৮০ শতক) ক্ষেতের চাউল কুমড়াডি পানির তলে গেছে। আরে এহন কিতা করমু বলে বিলাপ করতে থাহে।
মোঃ নসু মিয়া বলেন, যেই পানি অইছে এই পানি নাইম্মা ক্ষেতের জো করতে অইলে বিশ পচিশ দিন লাগবো। এই সময়ডাত কি করমু। আল্লায় জানে।
গোমতীনদী কুমিল্লা জেলার সদর, বুড়িচং ব্রাহ্মণপাড়া, দেবিদ্বার, মুরাদনগর, দাউদকান্দির উপর দিয়ে বয়ে গেছে। এসব উপজেলার অন্তত কুড়ি হাজার সবজি চাষী আছে। যারা সারা বছর সবজি চাষে ব্যস্ত থাকেন। তাদের সবার দশা একই রকম। চরের ফসল হারিয়ে বাকরুদ্ধ। তাদের দাবী গোমতীর পানি বৃদ্ধিতে তাদের প্রায় দশ কোটি টাকার ফসলহানী হয়েছে।

কুমিল্লা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান জানান, গতকাল রোববার থেকে গোমতীর পানি বৃদ্ধি শুরু হয়। আজ সোমবার গোমতীর চর তলিয়ে যায়। আমরা এখন প্রস্তুতি নিচ্ছি জরিপ করতে কতজন কৃষকের কি পরিমান ক্ষতি হয়েছে। তাদের তালিকা করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ক্ষতিপূরণে যা করার দরকার তা করবো।

এদিকে গোমতীর পানি বৃদ্ধি নিয়ে দুপাড়ের বাসিন্দারা ভীষণ দুঃচিন্তায় রয়েছে। কুমিল্লা
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, সোমবার দুপুর ১ টা পর্যন্ত গোমতীর পানি বিপৎসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে পানির উচ্চতা ৯.৯ মিটার। যেখানে বিপৎসীমা হিসেবে ধরা হয়েছে ১০.৭৫ মিটার। পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি পেতে পারে।