বিএনপির রোডমার্ড: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

সরকার পতনের একদফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে ঘোষিত ৫ বিভাগে রোডমার্চের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম বিভাগে রোডমার্চ করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কালকচুয়া এলাকা থেকে শুরু হওয়া তারুণ্যের এই রোডমার্চটি কুমিল্লা-ফেনী-মিসরাই হয়ে এদিন বিকেলে চট্টগ্রাম গিয়ে শেষ হবে। সরকারের পদত্যাগ এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার এক দফা দাবিতে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এই রোডমার্চে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোডমার্চের কারণে বিএনপির নেতাকর্মীরা মহাসড়কে অবস্থান নেওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে কুমিল্লার চান্দিনা থেকে চৌদ্দগ্রাম এলাকার কয়েকটি স্থানে ভেঙে ভেঙে অন্তত ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তীব্র যানজটে আটকা পড়ে বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রী ও চালকদের চরম দুভোর্গ পোহাতে হয়েছে।
এদিকে, রোডমার্চকে ঘিরে এ মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা থেকে ফেনী পর্যন্ত অংশে কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীদের ঢল নামে। এ সময় তারা সরকার পতনের নানা স্লোাগানে ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে মহাসড়কের দু’পাশে সমবেত হন। একই সঙ্গে মিছিলে মিছিলে পুরো মহাসড়ক ছিলো বিএনপির নেতাকর্মীদের দখলে।
এদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কালকচুয়ায় তারুণ্যের রোডমার্চের প্রারম্ভিক সভা করা হয়। এতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। মহাসড়ক লাগোয়া একটি হোটেলের সামনের মাঠে ওই সভার আয়োজন করা হয়। কিন্তু সেখানে জায়গা না হওয়ায় নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন মহাসড়কে। এছাড়া রোডমার্চের শত শত গাড়িও মহাসড়কে পার্কিং করে রাখা হয়। এতেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রাম ও ঢাকামুখী লেনে শুরু হয় তীব্র যানজট। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণের সুয়াগাজী এলাকায়ও একটি সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য রাখেন ফখরুলসহ দলের নেতারা। এছাড়া মহাসড়কের কুমিল্লা সদর দক্ষিণের পদুয়ার বাজার, চৌদ্দগ্রাম এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী। এসব কারণেই ভেঙে ভেঙে অন্তত ৩০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের। সকাল ৯টার দিকে শুরু হওয়া এই যানজট দুপুরের পর কমতে শুরু করে।
এদিকে, তীব্র যানজটের কারণে মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। বাধ্য হয়ে অনেককে পায়ে হেঁটে ৩ থেকে ৫ কিলোমিটার এলাকাও পাড়ি দিতে হয়েছে। এছাড়া রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী গাড়িও যানজটে আটকে চরম দুর্ভোগে পড়েন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়নামতি হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ মিজান উদ্দিন বলেন, বিএনপির রোর্ডমার্চ কর্মসূচিকে ঘিরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উভয়মুখী লেনে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। দলটির কর্মসূচি কুমিল্লার দিকে শেষ হয়ে চট্টগ্রামের দিকে চলে যাওয়ায় এখন যান চলাচল করছে। তবে গাড়ির দীর্ঘ জট লাগায় কিছুটা ধীরগতি রয়েছে। যানজট নিরসনে সকাল থেকেই মহাসড়কে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে।