বিশ্বজিৎ হত্যায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি বগুড়ায় গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ মাস আগে

ঢাকার বহুল আলোচিত বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি আলাউদ্দিনকে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দীপক কুমার দাস জানান, কুরবানির ঈদ উদ্যাপনে স্ত্রী নাহিদ ফেরদৌসকে নিয়ে আলাউদ্দিন (৩২) ৭ জুলাই মোকামতলা বন্দর এলাকায় শ্বশুর কাজী নুরুল ইসলামের বাড়িতে আসেন। শুক্রবার রাতেই তার ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। তার আসার গোপন খবর পেয়ে পুলিশ শুক্রবার সকালে তাকে গ্রেফতার করে। পঞ্চগড়ের আটোয়ারী থানায় তাকে সোপর্দ করা হয়েছে। আলাউদ্দিনের ওয়ারেন্টের আগে তার নিজ এলাকা আটোয়ারী থানায়ও এসেছিল।

ওসি দীপক আরও জানান, ২০১২ সালে ঢাকায় দর্জি শ্রমিক বিশ্বজিৎকে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আলাউদ্দিন পলাতক ছিলেন। কক্সবাজারের টেকনাফে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকে আলাউদ্দিন চাকরি করেন। এর আগে গাজীপুরে একটি পোলট্রি খামারে তিনি চাকরি করেছেন। তার স্ত্রী ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রী নাহিদ ফেরদৌস টেকনাফে একটি বিদেশি সাহায্য সংস্থায় চাকরি করেন। ২০১৬ সালে তাদের বিয়ে হয়।

জানা গেছে, ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর সূত্রাপুরের বাহাদুর শাহ্ পার্কের সামনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে কুপিয়ে বিশ্বজিৎকে হত্যা করেন। ওই সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয়বর্ষের ছাত্র ছিলেন আলাউদ্দিন। তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় বিশ্বজিতের ভাই উত্তম সাহা সূত্রাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। ২১ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসামিদের মধ্যে আটজনের মৃত্যুদণ্ড এবং ১৩ জনকে যাবজ্জীবন সাজা দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা আপিল করলে হাইকোর্ট ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট দুজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন এবং চারজনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং দুজনকে খালাস দেন। এজাহারে চার নম্বর আসামি আলাউদ্দিন ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন।