বুড়িচংয়ে রাস্তার উপরে দেয়াল নির্মাণ, অবরুদ্ধ ৫০ পরিবার

২০০ বছরের পুরোনো রাস্তায় এই দেয়াল নির্মাণ
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

 

 

কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের কালাকচুয়া গ্রামে চাঁদা না দেওয়ায় রাস্তার ওপরে বাড়ির সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ৫০টি পরিবার অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না তারা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কালাকচুয়া গ্রামের বাসিন্দাদের চলাচলের প্রায় ২০০ বছরের রাস্তা দখল করে প্রাচীর নির্মাণের করেন একই এলাকার মৃত সফিকুল ইসলামের ছেলে কবির হোসেন (৪২) ও মৃত কালা মিয়ার ছেলে জসিম উদ্দিন (৪০)। কবির হোসেন ও জসিম উদ্দিনরা বারবার এই রাস্তা দিয়ে চলাচলে বাধা দিতেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে। এই রাস্তা নিয়ে নিম্ন আদালতে একটি মামলাও চলছিল। গত শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে কবির হোসেন ও জসিম উদ্দিন নাম না জানা কয়েকজন লোক এনে রাস্তার মধ্যে প্রাচীর নির্মাণ শুরু করেন। পরে, স্থানীয়রা বাধা দিলে তাদেরকে হুমকি ধামকি দেন ও লাঠিসোটা দিয়ে ভয় দেখান অভিযুক্তরা। এসময় ভুক্তভোগী পরিবাররা জরুরী সেবা নম্বর ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে, পুলিশ এসে কাজে বাধা দেয়। কিন্তু অভিযুক্তরা পুলিশের কথা না মেনেই দেয়াল নির্মাণ করেন।

সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে গেলে কয়েকজন গ্রামবাসী অভিযোগ করে বলেন, গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা জোরপূর্বক দখল করে প্রাচীর দিয়ে দিয়েছে। আমরা কয়েকজন গ্রামবাসী এলাকার ইউপি সদস্য কামাল হোসেনকে বিষয়টি জানালেও তিনি এই বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেননি। বরং উল্টো নিজে থেকে প্রাচীর নির্মাণ করে রাস্তা বন্ধ করার নির্দেশ দেন তিনি।

ভুক্তভোগী আমেনা বেগম বলেন, পূর্ব পুরুষদের আমল থেকে এ রাস্তা আমরা ব্যবহার করে আসছি। হঠাৎ কবির আমাদের কাছে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে আমাদের চলাচলে রাস্তা বন্ধ করে দেবেন বলেও হুমকি দিতে শুরু করেন তিনি। টাকা না দেওয়ায় আমাদের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি। আমরা এখন বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। আমাদের সন্তানরা স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না। প্রশাসনের কাছে আমাদের আকুল আবেদন আমাদের রাস্তা আমাদের যেন তারা ফিরিয়ে দেন।

অপর ভুক্তভোগী জসিম উদ্দিন বলেন, তিনদিন ধরে মসজিদে যেতে পারছি না। বাড়ি বসে আমরা পুরুষরা নামাজ আদায় করছি। পুরো রাস্তা কবির ও জসিম দেয়াল তুলে বন্ধ করে দিয়েছেন। আমরা এখন কই যাবো।

অভিযুক্ত কবির হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি যে জায়গায় প্রাচীর তুলেছি, সেটা আমার পৈত্রিক সম্পত্তি। যারা অভিযোগ করছেন, তারা যদি নিজেদের চলাচলের রাস্তার জায়গা না রেখে বাড়িঘর নির্মাণ করেন তাহলে আমি কি করবো। আমি তাদের কোনো হুমকি কিংবা লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া করিনি। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

ইউপি সদস্য কামাল হলেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা ভিত্তিহীন। এটা তাদের মধ্যাকার ঝামেলা, আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না। ইউপি চেয়ারম্যানসহ আমরা এলাকাবাসীরা বসে বিষয়টি সমাধান করবো।

বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাহিদা আকতার বলেন, আমি এই বিষয়ে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দিয়েছি। তিনি দুই পক্ষকে নিয়ে বসে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করবেন।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমান বলেন, আমি গ্রামবাসীর অভিযোগ পেয়েছি। উপজেলা দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে বলে দিয়েছি যাতে এই বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।