মুক্তিপণের টাকা নিতে এসে অপহরণকারী চক্রের সদস্য আটক

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৯ মাস আগে

দেবিদ্বারে বাবার বুদ্ধিমত্তায় আটক হয়েছে ছেলের অপহরণকারী। খবর পেয়ে চক্রের অন্য সদস্যরা অহৃতকে ফেলে পালিয়েছে। ঘটনাটি ঘটে সোমবার রাত ১০টায় উপজেলার মাশিকাড়া বাজারের লাভলু মিয়ার বিকাশের দোকানে। অপহৃত কিশোর ফরহাদ (১৬) উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের সিএনজি চালক জামাল হোসেনের ছেলে এবং অপহরণ চক্রের সদস্য আটক যুবক আশরাফুল ইসলাম(২০) একই উপজেলার শাকতলা গ্রামের মো. রুবেল মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার বিকেলে মোহাম্মদপুর গ্রামের সিএনজি চালক জামাল হোসেনের ছেলে ফরহাদ তার মামার বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার পাঁচকুড়ি গ্রামে যাওয়ার পথে দেবিদ্বার-চান্দিনা সড়কের কাচিসাইর বাজার এলাকায় দুই মোটর সাইকেল আরোহী তার হাতে থাকা মোবাইলটি ছিনিয়ে নেয়। কিছুদুর যাওয়ার পর ফরহাদকে ডেকে নিয়ে মোবাইল ফেরত দেবার শর্তে মোটর সাইকেলে উঠতে বলে। ফরহাদ মোটর সাইকেলে উঠেলে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। বিকেল সাড়ে ৫টায় ফরহাদের মোবাইল ফোন থেকে তার বাবার নিকট সন্তানের মুক্তিপন বাবত ২০ হাজার টাকা দাবী করে অপহরণকারীরা। ভিক্টিমের বাবা ১০ হাজার টাকা তাদের পাঠানো বিকাশ নম্বরে পাঠিয়ে ওই বিকাশ নম্বরে ফোন করে স্থান জানতে চান এবং ঘটনার বর্ননা দিয়ে মাশিকাড়া বাজারের বিকাশ দোকানের মালিক লাভলুকে টাকা নিতে আসা লোকদের আটকে রাখার অনুরোধ জানান। রাত ৯টায় দোকান মালিক টাকা নিতে আসা আশরাফুল ইসলাম (২০) নামে এক যুবককে আটক করে ভিক্টিমের বাবাকে ফোনে বিষয়টি অবগত করেন। ভিক্টিমের বাবা তখন ঘটনাস্থলের আশপাশেই ছিলেন। অপহরণকারী চক্রের এক সদস্য আটক হওয়ার সংবাদটি জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে দেবিদ্বার থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আশরাফুলকে থানায় নিয়ে আসেন।
এদিকে টাকা আনতে গিয়ে এক সদস্য আটক হবার সংবাদে চক্রের বাকী সদস্যরা ফরহাদকে বেধরক মারধর করে উপজেলার কাশারিখোলা গ্রামের নির্জন এলাকায় তাকে মুমুর্ষাবস্থায় ফেলে যায়। ফরহাদের বাবা রাত সাড়ে ১০টায় তার ছেলের ফোনে সংবাদ পেয়ে এলাকার লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। ভিক্টিম ফরহাদ বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ব্যাপারে সোমবার রাতেই ভিক্টিম ফরহাদের বাবা জামাল হোসেন অপহরণকারী চক্রের সদস্য শাকতলা গ্রামের মো. রুবেলের ছেলে আশরাফুল ইসলাম(২০), মাশিকাড়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে মাহাবুব(২৩), একই গ্রামের মুকবুল হোসেন(২১), আবির হোসেন(২০) ও কাকসার গ্রামের শাহআলমের ছেলে জুয়েল রানা(২৫)সহ ৫জনকে অভিযুক্ত করে দেবিদ্বার থানায় মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যপারে দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) খাদেমুল বাহার বিন আবেদ জানান, অপহরনকারী চক্রের এক সদস্য আটক হয়েছে, ওই ঘটনায় ভিক্টিমের বাবা বাদী হয়ে ৫জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা করেছেন। আটক আশরাফুলকে ৭দিনের রিমান্ড আবেদন চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে।