এদিকে দুই নেতার অনুসারীদের দ্বন্দ্বের ফাঁকে নীরবে উপজেলার প্রতিটি অঞ্চলে ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন জামায়াতের প্রার্থী এবং সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ হাকিম সোহেল।
জানা যায়, আসনটি বিএনপির ভোটব্যাংক। এ উপজেলায় দলটির বিপুল জনসমর্থন রয়েছে। এখানে জামায়াতের জনসমর্থন ও সাংগঠনিক কাঠামোও সুদৃঢ়। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করছে। স্থানীয়রা বলছেন, এ আসন থেকে যিনি ‘ধানের শীষ’ প্রতীক পাবেন, তার জয়ের সম্ভাবনা বেশি। আগামী নির্বাচনে কায়কোবাদ মনোনয়ন পাবেন এবং নির্বাচিত হবেন বলে আশাবাদী তার অনুসারীরা। আসিফ মাহমুদ এ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে তার কর্মী-সমর্থকরা দাবি করলেও বিষয়টি নিয়ে এখনো মুখ খোলেননি এ উপদেষ্টা। তবে দুই নেতার অনুসারীরা প্রকাশ্যেই দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন। এর আগে অনুসারীদের মাঝে হামলা-মামলা, সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। প্রতিদিনই সভা-সমাবেশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে আসন্ন নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক সংঘাতের আশঙ্কা দৃশ্যমান হচ্ছে। তবে কি এ আসন থেকে আসিফ মাহমুদ নির্বাচনে লড়বেন? নাকি তিনি উন্নয়নকাজ করেই সীমাবদ্ধ থাকবেন? এলাকায় এমন নানা আলোচনা ও প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
এদিকে এসব দ্বন্দ্ব এড়িয়ে জনগণের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন জামায়াতের প্রার্থী সোহেল। মিষ্টিভাষী এ তরুণ প্রার্থীকে নিয়ে অনেকেই ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। এনসিপির মুরাদনগর উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী মিনহাজুল হক বলেন, এখানে কায়কোবাদের অনুসারীরা আমাদের সব ধরনের কর্মকাণ্ডে বাধা দেয়। আমাদের বিরুদ্ধে অযাচিত মন্তব্য করে। তিনি বলেন, কুমিল্লা-৩ মুরাদনগর থেকে এনসিপির প্রার্থী থাকবে। আমরা এ আসনে নির্বাচন করার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। প্রতিটি ইউনিয়নে আমাদের কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন বলেন, মূল এনসিপির সঙ্গে আমাদের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তবে এনসিপির ওপর ভর করেছে কিছু আওয়ামী লীগের দোসর। আমরা তাদের বিরুদ্ধে কথা বলছি। মুরাদনগরে কায়কোবাদের বিকল্প নেই। আগামী নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন। জামায়াতের ইউসুফ হাকিম সোহেল বলেন, ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে অনেক রক্তের বিনিময়ে। পুনরায় যেন কোনো ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিতে না পারে সেই লক্ষ্যে আমরা জনগণকে সচেতন করছি। নেতা না, আমি জনগণের সেবক হওয়ার চেষ্টা করছি। আমৃত্যু মুরাদনগরবাসীর খাদেম হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।