হারিয়ে খুঁজে ফিরি খালাম্মা – শাহাজাদা এমরান

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ মাস আগে

 গেল বছর আপনি যখন আজকের এই দিনে আমাদের ছেড়ে চলে যান ঠিক ঐ সময়ে আমি আমার মায়ের অচেতন দেহ নিয়ে হাসপাতালের (কুমিল্লা টাওয়ার) আইসিইউতে ।

আমেরিকা থেকে সেল ফোনে আপনার মৃত্যুর খবর (২৫ জুন) শুনামাত্রই একবার মায়ের অচেতন মুখায়বের দিকে তাকাই আবার আপনার মায়াবী মুখটা চোখের সামনে নিয়ে আসি।

নিরবে চোখের পানি পড়ছে দেখে উপস্থিত ডাক্তার আমাকে ওয়েটিং রুমে নিয়ে বসায়। শান্তনা দিয়ে ডাক্তার বলেন, সাংবাদিক সাহেব, আপনার মা উন্নতির দিকে।

আমি বললাম , ভাই, আমার মা উন্নতির দিকে বলছেন ভালো লাগছে কিন্তু কিছুক্ষণ আগেই আমেরিকায় আমার আরেক মা পরপারে চলে গেলেন। তিনি হলেন সাপ্তাহিক আমোদ এর উপদেষ্টা সম্পাদক শামসুন নাহার রাব্বী।

আমার শারিরীক জন্মটা তার গর্ভে না হলেও পেশাগত জন্মটা তিনিই আমাকে দিয়েছেন। সারাদিন শহর কুমিল্লায় হেঁটে হেঁটে যখন পরিশ্রান্ত ,ঘর্মাক্ত ও ক্ষুধার্থ শরীর নিয়ে আমোদ এ গিয়ে কলিং বেল টিপ দিতাম, তখন দড়জা খুলেই চেহারা দেখে বুঝে যেতেন আমি ক্ষুধার্থ । ফ্যান ছেড়ে দিয়ে বলতেন পরে কথা হবে। আগে খাবার নিয়ে আসি, কিছু খেয়ে নাও, মুখটা শুকনা লাগছে যে ইত্যাদি ইত্যাদি আরো কত কথা যে বলতেন, ঠিক যে কথাগুলো বলতেন আমার মা।

খালাম্মার সাথে কত স্মৃতি,কত কথা যে আমার , তার কোন হিসেব নেই। তবে সব কথা বা স্মৃতিই একপক্ষীয়। অর্থাৎ তিনি দিয়েছেন আর আমি শুধু নিয়েছি,খেয়েছিই।

আমার আবীর জন্ম নেয় ৩ ডিসেম্বর ২০০৫ সালে কুমিল্লার মিডল্যান্ড হাসপাতালে। খবর শুনেই ছুটে আসেন। যেদিন রিলিজ হয় সেই দিন ঠিক সময় মত গাড়ি নিয়ে মিডল্যান্ডের নিচে অপেক্ষারত।

ডিও বাহার মামা হাসপাতালের তিনতলায় গিয়ে জানালেন, নানী নিচে গাড়িতে আছে ,তারাতারি নামেন। আমি তো অবাক !

গাড়িতে গিয়ে বললাম, খালাম্মা , রিক্সায় করেই তো চলে যেতে পারতাম ।আপনি কষ্ট করলেন ক্যান।

ধমক দিয়ে বললেন, তোমাকে নিতে আসি নাই । আমি জাহেরা আর আমার নাতিকে নিতে এসেছি।

প্রিয় বন্ধুরা, এই হলো আমাদের শামসুন নাহার রাব্বী খালাম্মা। এমন উদাহারণ শত শত রয়েছে আমার জীবনে। জুন আর জুলাই মাসটা আমার জীবনের বেদনাদায়ক মাস হিসেবে বেঁচে থাকবে আজীবন।

আমি সব সময় বলি আমার মা তিন জন। কিছুটা বিরতী দিয়ে এই সময়ে তিন জনই চলে গেলেন।

আমার মা মারা যান ২০২১ এর ১২ জুলাই , যিনি আমাকে কুমিল্লা এনেছেন,কুমিল্লার জীবন দান করেছেন আমার ফুফু আম্মা । তিনি মারা যান শামসুন নাহার রাব্বী খালাম্মা মারা যাওয়ার চারদিন পর ২৯ জুন।

এই তিনজনই আমার মা। একজন আমাকে গর্ভে ধরেছেন, আরেকজন আমাকে কুমিল্লা এনেছেন আর অপরজন আমাকে পেশাগত ভাবে বেড়ে উঠার সুযোগ করে দিয়েছেন।

কিভাবে ভুলি আমার এই তিন মা- কে ?

মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি এবং আপনারাও দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন আমার তিন মাকেই জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন, আমিন,ছুম্মা আমিন।
২৫.০৬.২০২২ ইং।