নথিপত্র বলছে, গত মাসের ২০ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের এক সভায় বেনজীরের ডক্টরেট ডিগ্রির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তথ্যানুসন্ধান কমিটির রিপোর্ট বিস্তারিত পড়ে শুনান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। তথ্যানুসন্ধান কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদের ভর্তি ফরমে নথির ক্রমিক নং ৫৪-এ নীল কালিতে ফরম পূরণ করা হয়; কিন্তু তার শিক্ষাগত ডিগ্রি বিএ (পাস) ঘরে কালো কালিতে মোট নম্বর লিপিবদ্ধ করা হয়। অনুচিত সুবিধা নেওয়ার জন্য বেনজীর ফরমে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছে তথ্যানুসন্ধান কমিটি।
রিপোর্টে আরও বলা হয়, ডিবিএ রুলস অনুযায়ী শিক্ষাগত যোগ্যতা আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও পোস্টগ্র্যাজুয়েটে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক; কিন্তু বেনজীর আহমেদ সে শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন।
সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে তথ্যানুসন্ধান কমিটির রিপোর্ট গ্রহণ করে সিন্ডিকেট। এ ছাড়া বেনজীর আহমেদ ভর্তির যোগ্যতা পূরণ না করে ডিবিএ ডিগ্রি অর্জনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা ব্যক্তির দায় নিরূপণসহ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রদানের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করে সিন্ডিকেট।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত বেনজীর আহমেদের ডিবিএ ডিগ্রি স্থগিত থাকবে। কমিটিকে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট প্রদান করতে বলা হয়।
বেনজীর আহমেদ ২০১৯ সালে ঢাবি থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি নেন। এরপর থেকে তিনি নামের আগে ডক্টর শব্দটি ব্যবহার করা শুরু করেন।