উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের উদ্ভট বক্তব্যের প্রতিবাদে মুরাদনগরে টানা দু’দিন বিক্ষোভ

কায়কোবাদের ভাগিনাকে ক্রসফায়ারের হুমকির অভিযোগ, তদন্ত ওসির বিরুদ্ধে
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বেসরকারি টেলিভিশন যমুনা টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও মুরাদনগরের জননন্দিত নেতা, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ দাদাভাইকে জড়িয়ে উদ্ভট মন্তব্য করায় তার প্রতিবাদে মুরাদনগর উপজেলায় টানা দু’দিন বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৪ জুন মঙ্গলবার বিকেল ও ২৫ জুন বুধবার—টানা দু’দিন কুমিল্লার মুরাদনগর সদরে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে নারী-পুরুষ, হিন্দু-মুসলিমসহ সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন এবং সাবেক মন্ত্রী কায়কোবাদের বিরুদ্ধে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার ‘উদ্ভট’ মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান। এ সময় তারা অবিলম্বে বিতর্কিত উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। মুরাদনগরের সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন—সাবেক মন্ত্রী কায়কোবাদ শুধু বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নন, তিনি মুরাদনগরের মাটি ও মানুষের নেতা। দলীয় সমর্থনের বাইরে সাধারণ মানুষের কাছেও তিনি একজন জনপ্রিয় অভিভাবক। অথচ উপদেষ্টা আসিফ একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদকে নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোল্লা মজিবুল হক বলেন, “মুরাদনগরের পাঁচবারের এমপি, আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদকে জড়িয়ে উপদেষ্টা আসিফ যে উদ্ভট বক্তব্য দিয়েছেন, তার প্রতিবাদে গতকাল এবং আজ আমরা বিক্ষোভ মিছিল করেছি। উপদেষ্টা আসিফ, জনগণের প্রাণপ্রিয় নেতাকে নিয়ে মিথ্যাচার করে জনমনে আঘাত দিয়েছেন।” মুরাদনগরের বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক নায়েব আলী বলেন, “বর্তমান সরকার এই শিশু উপদেষ্টাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে জাতির কাছে লজ্জিত হচ্ছে। এরা হাসিনার মতো প্রশাসনকে ব্যবহার করে জনগণের ওপর নতুন ফ্যাসিবাদ তৈরি করছে।” এদিকে, বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ও নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের ভাগিনা সোহেল আহমেদ বাবু অভিযোগ করে বলেন—“মুরাদনগর সদরে উপদেষ্টা আসিফের চাচাতো ভাই ওবায়দুল্লাহ আওয়ামী লীগের লোকজনদের নিয়ে সাবেক মন্ত্রী কায়কোবাদের নাম জড়িয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছিলেন। আমি সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের বলি, ভাই, এদের একটু বোঝান—এভাবে গালাগালি করলে তো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। এ কথা বলার পর মুরাদনগর থানার ওসি (তদন্ত) আমিন কাদের বলেন, ‘তুই কে? এখান থেকে যা, না হলে এনসিপির দুইটারে গুলি করে মেরে তোরে মামলা দিমু, এখন না গেলে তোরে ক্রসফায়ার দিমু।’” তিনি আরও বলেন, “ওসি তদন্ত আমিন কাদেরের এমন আচরণে সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যরা আমাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন।” মুরাদনগর পুলিশের এমন আচরণে জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।