“একটি দুর্ঘটনা, এক শিশুর নিঃশব্দ পৃথিবী : আবরারের সব হারানোর আর্তনাদ”

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৩ সপ্তাহ আগে

মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কুমিল্লার সড়ক আবার কেড়ে নিল একই পরিবারের স্বামী,স্ত্রী,ছেলে ও মেয়েকে। এর আগে ঈদের দিন রাতে কুমিল্লায় বাস ট্রেন সংঘর্ষে কেড়ে নিয়েছিল মা ও দুই মেয়েসহ ১২জনকে। মহান স্বাধীনতা দিবসের দিনগত সন্ধ্যায় (২৬ মার্চ) কুমিল্লায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মা-বাবা, ভাই-বোনকে হারানোর খবরটি শুরুতে জানত না ১২ বছরের আবরার। সে ভাবছিল তার পরিবারের সবাই আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কারণ, তখন সে নিজেও হাসপাতালের একটি বেডে চিকিৎসা নিচ্ছিল।

বৃহস্পতিবার রাতে, যখন স্বজনরা ময়নামতি হাইওয়ে থানা থেকে পরিবারের সদস্যদের মরদেহ আনতে যান, তখনই আবরার জানতে পারে নির্মম সত্য সেই দুর্ঘটনায় একমাত্র সে-ই বেঁচে আছে; তার পরিবারের বাকিরা সবাই প্রাণ হারিয়েছেন। এই খবর শোনার পর থেকেই আবরার বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় একটি বাসের ধাক্কায় প্রাইভেটকারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে একই পরিবারের ৪ জনসহ মোট ৫ জন নিহত হন। ওই দুর্ঘটনায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় আবরার।

নিহতদের স্বজনরা জানান, লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে নানা বাড়িতে ঈদের ছুটি কাটিয়ে প্রাইভেটকারে করে বাবা-মা ও ভাই-বোনের সঙ্গে ঢাকায় ফিরছিল আবরার। পথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সে তার পুরো পরিবারকে হারায়। তবে তার বড় ভাই হুজাইফা (২৫) নানা বাড়িতে থাকায় তিনি বেঁচে যান।

ঈদ শেষে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয় তাদের বহনকারী প্রাইভেটকারটি। আবরারের বাবা রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া মোহাম্মদীয়া মাদ্রাসার একজন মুফতি ছিলেন।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়ার একটি হোটেলে খাবারের বিরতি শেষে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় প্রাইভেটকারটি সড়কে উঠছিল। এ সময় চট্টগ্রামগামী স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস সেটিকে ধাক্কা দেয়। এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ৫ জন নিহত হন।

নিহতরা হলেন আবরারের বাবা মুফতি আব্দুল মোমিন (৫২), মা দিল আফরোজ আক্তার (৪৫), বোন লাবিবা (২১) এবং ছয় বছর বয়সী ভাই আরশাদ। এছাড়া গাড়ির চালক জামাল হোসেন (৫০)ও নিহত হন। তার বাড়ি বরিশাল জেলায়। পরিবারের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ছাতারপাইয়া গ্রামে।

আবরারের মামা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমেদ বলেন, “বেপরোয়া বাসের কারণে আমার বোনের পুরো পরিবারটি শেষ হয়ে গেল। সড়কে এমন মৃত্যু কারও কাম্য নয়।” তিনি বাসচালক ও সহকারীর গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানার ওসি আবদুল মমিন জানান, দুর্ঘটনার ভয়াবহতা দেখে ধারণা করা হয়েছিল, গাড়ির ভেতরে থাকা সবাই হয়তো মারা গেছেন। তবে ভাগ্যক্রমে আবরার বেঁচে যায়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর বাসটি জব্দ করা হলেও চালক ও সহকারী পালিয়ে যায়। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।