এনসিপি নেতারা বলছেন, বিগত সময়ে রাজনৈতিক স্বাধীনতা না থাকায় সেভাবে সমালোচনা করার সুযোগ ছিল না। অভ্যুত্থান পরবর্তীসময়ে সেই সুযোগ
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের দায়িত্ব নেওয়া-না নেওয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। এতে দুই দলের নেতারাই পাল্টাপাল্টি মন্তব্য করতে থাকেন। ইশরাকের অনুসারীরা ঢাকাবাসীকে নিয়ে টানা কয়েকদিন সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নামেন। এরপর এনসিপি নেতাকর্মীরা অনেকটা পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে পক্ষপাতদুষ্ট উল্লেখ করে কমিশন বাতিল ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবিতে ইসি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে দলটি। এতে দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়।
আমরা জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করি, যে চেতনা একাত্তরকেও ধারণ করে। স্পেসিফিক কোনো দলের নামে আমরা কখনো নেগেটিভ বক্তব্য দেইনি। একাত্তরের বিষয়ে রাজনৈতিক দলের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে।- এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর
শনিবার (২৪ মে) প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে লিখিত বক্তব্যে বিএনপি সরকারে থাকা দুজন ছাত্র উপদেষ্টার বিষয়ে প্রশ্ন তোলে। এই দুজন উপদেষ্টা সরাসরি এনসিপির পদে না থাকলেও তারা ভবিষ্যতে এনসিপি থেকেই নির্বাচন করবেন বলে চর্চা আছে। বিএনপির বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের পাল্টা বক্তব্যও কিছুটা প্রমাণ করে এই দুই নেতা তাদের লোক।
অন্তর্বর্তী সরকারের যেসব উপদেষ্টা একটি নতুন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত বলে সবাই জানে ও বোঝে; উপদেষ্টা পরিষদে তাদের উপস্থিতি সরকারের নির্দলীয় নিরপেক্ষ পরিচিতি ক্রমাগত প্রশ্নবিদ্ধ করে চলেছে বলেই সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে তাদের অব্যাহতি প্রদান করা প্রয়োজন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এরই মধ্যে বিতর্কিত হয়েছেন, সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে তাকে অব্যাহতি দিতে হবে।’
বলাই বাহুল্য নির্বাচনের পরে তারা যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে কী ধরনের জুলুম তারা চালাতে পারে এটার একটা নিদর্শন তারা আমাদের দেখিয়ে দিচ্ছে। সেই জায়গা থেকে যদি বলেন বিএনপির সঙ্গে আমাদের দূরত্ব তাহলে দূরত্ব।- এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন
এর জবাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে নাম জড়িয়ে ছাত্র উপদেষ্টাদের পদত্যাগ করতে বলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক বলে জানান দলটির নেতা নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ছাত্র উপদেষ্টারা গণ-অভ্যুত্থানের প্রতিনিধি হিসেবে সরকারে গেছেন এবং গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করছেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির যে দূরত্ব আমি এটাকে দূরত্ব মনে করি না। বিএনপি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল। বিএনপি ব্যক্তিগত লাভ-ক্ষতির চিন্তা করে কথা বলেন না।’
গত ১২ মে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপি জানায়, যারা ১৯৭১ সালে এই জনপদের মানুষের জনযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল এবং যাদের বিরুদ্ধে গণহত্যায় সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে, আমরা চাই তারা নিজেদের সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান জাতির সামনে ব্যাখ্যা করে জাতীয় সমঝোতা ও ঐক্যকে সুদৃঢ় করবে এবং চব্বিশের অভ্যুত্থানের জনআকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নে সহযোগী হবে।
দুদিন আগে ছাত্রশিবিরের প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম ফেসবুক পোস্টে লেখেন, জুলাইয়ের গাদ্দারদের আহ্বানে নয়, বরং নিজ নিজ তাগিদে দেশের স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জামায়াত কিছুটা কৌশলী ভূমিকা পালন করছে। সরাসরি রাজনৈতিক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে দেখা গেছে দলটির নেতাকর্মীদের।
তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীসময়ে বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে। নতুন বাংলাদেশে অবৈধ পন্থায় ক্ষমতা দখলের রাজনীতি যেন আর না হয় সেটিই এনসিপির চাওয়া। আমাদের চাওয়াগুলো যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত। এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো দলের মতপার্থক্য দেখালে এনসিপির সঙ্গে বিভাজন মনে করছেন। কিন্তু আমরা মনে করি নতুন বন্দোবস্ত।’
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে কি না জানতে চাইলে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার জাগো নিউজকে বলেন, ‘রাজনৈতিক দূরত্ব নয়। রাজনীতিতে সব সময় সমালোচনা-পাল্টা সমালোচনা থাকবে। আগে আওয়ামী লীগ অন্য কোনো দলকে স্পেস দিতো না। এখন একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশের উন্নতি হয়েছে। সবাই রাজনীতি করছে, সবাই সবার পক্ষে-বিপক্ষে সমালোচনা করছে, প্রতিযোগিতাও আছে। এটা ভালো, কিন্তু এটাকে সংঘাতের দিকে নিয়ে যাওয়া যাবে না।’