বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. ফাওজুল কবির খান বলেছেন, আদানির চুক্তিতে যদি কোন রকম অনিয়ম পাওয়া যায়, তাহলে বাতিল করতে দ্বিধা করবো না। মুখের কথা আদালত মানতে চাইবে না, যথাযথ কারণ থাকতে হবে।
রোববার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানীর দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০২১)-এর অধীন সম্পাদিত চুক্তিসমূহ পর্যালোচনার লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় কমিটির অন্তবর্তী রিপোর্ট গ্রহণ শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।
উপদেষ্টা আরও বলেন, কোন চুক্তি বাতিল করা যায় দুটি কারণে। একটি হয় কোন কারণ ছাড়া আর একটি হয় কোন কারণ থাকলে। কারণ ছাড়া বাতিল করলে বিপুল পরিমাণ এলডি (জরিমানা) দিতে হবে। এমনিতে সরকার অনেক দায়ের মধ্যে রয়েছে, নতুন করে আর দায় বাড়াতে চাই না।
বাতিল প্রসঙ্গে শাহদীন মালিক বলেন, চুক্তি শুধু বাতিল করার যথেষ্ট গ্রাউন্ড রয়েছে। আমরা এখানে বাতিল করলাম, কিন্তু তারা আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে পারে। সেখানে ৫ বিলিয়ন ডলার দাবি করতে পারে। বাতিল না করলে এখন যে ক্ষতি হচ্ছে তারচেয়ে দশগুণ-বিশগুণ গচ্চা যেতে পারে।
জাতীয় কমিটির সদস্যরা বলেন, আদানির চুক্তি বাতিল করার পর যদি জেতার সম্ভাবনা থাকে তাহলে অবশ্যই বাতিলের সুপারিশ করা হবে। ৩০ শতাংশ জেতার সম্ভাবনা থাকলে আমরা আদালতে যাবো না। যদি দেখি আইনগতভাবে ৮০ শতাংশ জেতার সম্ভাবনা রয়েছে, তাহলে অবশ্যই পরামশ্য দেবো সরকারকে। তবে আগেই সব তথ্য প্রকাশ করলে অনেক ক্ষতি হতে পারে। তাই সব কথা বলতে চাইনা।
জাতীয় কমিটির সদস্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বিগত সময়ে বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতে যা হয়েছে, যে হারে বিদ্যুতের উৎপাদন ও পেমেন্ট বেড়েছে মনে হয় আইন্সটাইনও হিসাব মেলাতে পারবে না। বিদ্যুতের উৎপাদন বেড়েছে ৪.৪ গুণ আর, পেমেন্ট বেড়েছে ১১.১ গুণ। ২০১০ সালে বিদ্যুতের মোট পেমেন্ট ছিল ৬৩৮ মিলিয়ন, আর ২০২৪ সালে এসে হয়েছে ৭.৫ বিলিয়ন ডলার।
তিনি বলেন, শুধু সরকার নয়, আইপিপি, আমলা এবং রাজনীতিবিদ মিলে একটি অনিয়ম হয়েছে। বিশেষ বিধান আইনের মেয়াদ বারবার বেড়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সব সময় প্রধানমন্ত্রীর অধীনে ছিল এখানেও একটি সমস্যা রয়েছে।
আমরা মূলত ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করতে পদক্ষেপ নিতে বলেছি। ভবিষ্যতে যেনো আর এমন অনিয়ম আর না ঘটে। আর অতীতে যা ঘটেছে, কিভাবে করেছে তার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। আর চুক্তিগুলো যদি রিভিউ করা যায়, তাহলে কিছু ব্যয় কমে আসবে বলে মনে করছে কমিটি
এক প্রশ্নের জবাবে জাহিদ হোসেন বলেন, বিশেষ বিধান আইনের আওতায় করা সবগুলো চুক্তি পর্যালোচনা করা হয়েছে। দুর্নীতির হিসাব করা কঠিন, এখানে পেমেন্ট দেখতে হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আদানির বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিষয়ে আদালত একটি রুলিং দিয়েছে ৬০ দিনের মধ্যে দুদকসহ সংশ্লিষ্টদের তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে হবে। এখানে জাতীয় কমিটি সহায়তা করছে। আমাদের বিশ্বাস মাস খানেকের মধ্যে শক্ত প্রমান আপনারা পাবেন। আদানি এবং আরও বেশ কয়েকটি বড় বড় কোম্পানি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্ট প্রকাশ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, একটি রিট মামলা চলছে, সেখানে যাতে আইনগত বাঁধার সৃষ্টি না হয়। সেটি বিবেচনায় নিয়ে তারপর প্রকাশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে আন্তর্জাতিকভাবে রিভাইস ভার্সন প্রকাশের রেওয়াজ রয়েছে, সেটি ফলো করা হতে পারে।
বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে রিপোর্ট হস্তান্তর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আব্দুল হাসিব চৌধুরী, আলী আশরাফ, ড. জাহিদ হোসেন, মোশতাক হোসেন খান, ড. শাহদীন মালিক প্রমুখ।