কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কাজী নজরুল ইসলাম হলের খাবারের সাথে মিলছে পাথর,পাতা, এমনকি কাঁচের টুকরাও। বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
আবাসিক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ‘দুপুর বা রাতের স্বাদহীন খাবারে ভাতের সাথে পাথর পাওয়া এখন যেন নিত্যদিনের ঘটনা। কেউ কেউ আবার তরকারির মধ্যে পেয়েছেন শুকনো গাছের পাতা, আর সর্বশেষ এক ছাত্র তার ভর্তায় পেয়েছেন ধারালো কাঁচের টুকরা।’
খাবার প্লেটে কাঁচের টুকরো পাওয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তামিম হাসনাত রাফি বলেন, ‘পরশুদিন হলের ডাইনিংয়ে খাবার খাওয়ার সময় ভর্তার সঙ্গে একটা কাঁচের টুকরো পাওয়া যায়। সৌভাগ্যক্রমে সময়মতো দেখতে পেয়েছিলাম, না হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতো । এটা শুধু অবহেলা নয়, চরম অমানবিকতা।’
এবিষয়ে কাজী নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ওসমান গণি বলেন, ‘কুবির নজরুল হলের ডাইনিংয়ে রান্না হয় হচ্ছে কুমিল্লার মধ্যে এক ভিন্ন স্বাদের এক রান্না। যেখানে,রান্নাকৃত মুরগি, মাছ অথবা ডিমের টেস্ট একই রকম। আবার মাঝে মধ্যেই ডালে বা তরকারিতে পাওয়া যায় পাথর, কাঁচ অথবা পাতা। যার ফলে,হলের বেশিরভাগ ছাত্র বাধ্য হয়েই বাহিরে হোটেলে বা বিজয়-২৪ হলে গিয়ে খাবার খেতে হচ্ছে।হলের সকল ছাত্রদের এখন একটাই দাবি- হলের বাবুর্চিকে পরিবর্তন করা। হল প্রসাশন দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
আবাসিক শিক্ষার্থী হাসিব বলেন, “ডাইনিংয়ের হাইজিন, রান্নার মান ও তদারকি তিন দিকেই সমস্যা। রান্নাঘরের পাশে খোলা ওয়াশরুম, তেলাপোকা-লার্ভা মিলে খাবার অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে। সম্প্রতি আলুর ভর্তায় কাচের টুকরাও পাওয়া গেছে। বাবুর্চি একঘেয়ে ও নিম্নমানের খাবার দেন—কাঁচা গন্ধওয়ালা মাছ, হাড়ভরা মুরগি, অর্ধেক ডিম। রান্না এতটাই খারাপ যে অনেকেই বাইরে খেতে বাধ্য হয়।পূর্বে এক সিনিয়র ডাইনিংয়ের দায়িত্ব নিয়ে মান উন্নয়নের চেষ্টা করলেও বাবুর্চিদের অনীহার কারণে সফল হতে পারেননি। তাঁর মন্তব্য, “এটা শুধু অব্যবস্থাপনা নয়, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্পষ্ট প্রতারণা। পাশের হলগুলোর তুলনায় আমাদের ডাইনিংয়ের মান আকাশ-পাতাল ব্যবধান। রান্না যেখানে একটি শিল্প, সেখানে আমাদের হলে সেটার কোনো ছাপই নেই। নজরুল হলের শিক্ষার্থীদের এখন একটাই দাবি, ‘আমাদের হলের বর্তমান বাবুর্চিদেরকে এই হলে আর চাই না৷’
কুবির মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. মো. বেলায়েত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘পাথর, পাতা, গাছ এইসব আনওয়ান্টেড সাবস্ট্যান্ড। খাবারের সাথে এসব গ্রহণ করলে ডাইজেস্টে প্রবলেম হবে, ইমিউনিটি ব্রেকডাউন হবে, ফুড পয়জনিং এর মতো রোগ গুলো হবে। কাঁচ একটি বিষাক্ত পদার্থ, কাঁচের গুঁড়ো খাবারের সাথে খেয়ে গলায় ঘষা লাগলে ব্লেডিং হতে পারে এবং সেখানে ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শক আব্দুল্লাহ আল মাহবুব বলেন, ‘এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার আমার নাই, এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রশাসন অথবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। যদিও আমার এখতিয়ার নেই তবে আমি বলি এইটা একটা বিগ কনসার্ন, যেমন ক্যাফেটেরিয়ায় খাবার নিয়েও অনেক অভিযোগ আছে, আমরা চেষ্টা করছি পুরো বিষয়টা নতুন করে শুরু করার আর হলের ডাইনিং এর বিষয়টাও গুরুত্বপূর্ণ। খাবারের বিষয়ে খুবই সচেতন থাকা প্রয়োজন।’
এবিষয়ে কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট মোঃ হারুন বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে এই বিষয়ে অবগত হয়েছি। হলের ডাইনিং এর সকলের সাথে মিটিং করে তাদের এবিষয়ে বলে দিয়েছি। ডাইনিং এর হেড কুক যিনি আছেন তাকে আমি ভালোভাবে বলে দিয়েছি। ভবিষ্যতে তারা যদি সর্তক না হয় তাহলে তাদের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।’