কুমিল্লায় ঘুরে ঘুরে সব ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করছে কিশোর গ্যাং চক্র। সংগৃহীত পেট্রোল, অকটেন ২৫০ টাকা লিটারে খোলাবাজারে বিক্রি করছে তারা। জ্বালানি সংগ্রহে ব্যবহার করছে রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল। প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে সিরিয়াল ভেঙে সাধারণ গ্রাহকদের সঙ্গে জোরজবরদস্তি ও খারাপ আচরণ করে জ্বালানি সংগ্রহ করছে এসব কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। তাদের ভয়ে কেউ কথা বলছে না। এদিকে জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কিশোর গ্যাং ছাড়াও তেলেসমাতিতে মেতেছে সাধারণ বাইকার চক্র।
জানা গেছে, জ্বালানি সংকটের সুযোগে মুনাফা সংগ্রহে নেমেছে জেলার বিপুলসংখ্যক কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। ফিলিং স্টেশন থেকে ১৪০ টাকায় তেল সংগ্রহ করে খোলা বাজারে ২৫০ টাকা লিটারে বিক্রি করছে। কষ্ট লাঘবে অনেকেই উচ্চমূল্যে তাদের কাছ থেকে এসব জ্বালানি ক্রয় করছেন। বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনের সামনে দীর্ঘ সারি দেখলেই তারা বোতলে সংগৃহীত পেট্রোল, অকটেন নিয়ে বিক্রির প্রস্তাব দিচ্ছে।
রোববার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আমতলী এলাকায় মাস্টার ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। এ সময় কিশোর গ্যাং সদস্যরা জোরজবরদস্তি করে সিরিয়াল ছাড়াই আগে চলে যাচ্ছে ও জ্বালানি সংগ্রহ করছে। বখাটে শ্রেণির এমন কিশোরদের দেখে কেউ ভয়ে কথা বলে না। একই চিত্র দেখা গেছে শাসনগাছা এলাকার ইস্টার্ন ফিলিং স্টেশন ও নগরীর টেলিকোনা এলাকার নুরুল হুদা ফিলিং স্টেশনে। তাছাড়া জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন থেকে একইভাবে জ্বালানি সংগ্রহ করছে কিশোর গ্যাং চক্র। ঝামেলা এড়াতে পাম্পের নজেল ম্যানরাও তাদের দ্রুত জ্বালানি দিয়ে বিদায় করে দিচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, একটি কালোবাজারি সিন্ডিকেট এসব গ্যাং সদস্যদের ব্যবহার করছে।
মাস্টার ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নিতে আসা গ্রাহক ইলিয়াস হোসেন বলেন, ২-৩ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছি কিন্তু আমাদের ধাক্কা দিয়ে কিছু কিশোর গ্যাং সদস্য আগে জ্বালানি সংগ্রহ করে নিচ্ছে। আবার একটু পরেই তারা ঘুরেফিরে এসে জ্বালানি সংগ্রহ করছে।
সেখানে অপেক্ষমাণ শাহ আলম বলেন, দীর্ঘ লাইনের বিড়ম্বনা ও কষ্ট লাগবে কিশোরদের কাছ থেকে ২৫০ টাকা করে ৩ লিটার অকটেন সংগ্রহ করেছি।
ওই ফিলিং স্টেশনের নজেল ম্যান ইব্রাহিম বলেন, এগুলো এলাকার পোলাপান। তাদের আগে না দিলে ঝামেলা করে। আমাদের কিছু করার নেই।
নুরুল হুদা ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষমাণ মোটরসাইকেলচালক দুলাল আহমদ বলেন, কিশোর গ্যাং ও বাইকার চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রত্যেকটি ফিলিং স্টেশনের সামনে রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান নামলে এ সংকট অনেকাংশে কমে আসতে পারে।
জেলার দেবিদ্বার উপজেলার পান্নারপুল এলাকার ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার বশির আহমেদ বলেন, জ্বালানি সরবরাহ আগে থেকে বেড়েছে। আশা করি আস্তে আস্তে সংকট কেটে যাবে। তবে রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেলের সারি বাড়ছে।
কুমিল্লা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ বলেন, কিশোর গ্যাং সদস্যদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে তাদের উৎপাত থাকলে সেখানেও অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মু রেজা হাসান বলেন, জ্বালানি সংকট আগে থেকে অনেকাংশে কমে এসেছে। যেসব অব্যবস্থাপনা রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।