কুমিল্লায় পেশাজীবী ও মানবাধিকার বিষয়ক সংবাদমাধ্যমে যুক্ত বিশেষ প্রতিনিধি এবং একটি অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্রকে ঘিরে অপহরণচেষ্টা, শারীরিক হামলা, চাঁদাবাজি ও সাইবার হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, একটি সংগঠিত অপরাধী চক্র দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে এবং মিথ্যা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখিয়ে তাকে অপহরণের চেষ্টা পর্যন্ত করা হয়েছে। জানা গেছে, সম্প্রতি অজ্ঞাত পরিচয়ের কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্রকে আটক করার চেষ্টা করে। এ সময় তারা একটি কথিত ওয়ারেন্ট কাগজ প্রদর্শন করে, যা পরবর্তীতে থানায় যাচাইয়ে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, অপহরণের চেষ্টা চলাকালে তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয় এবং তার পেশাগত কার্যক্রমে বাধা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে সাইবার মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে সম্মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত চক্রটি নারী ও পুরুষ সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক, যারা ছদ্মবেশে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। তারা চাঁদার টাকা আদায়ের জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এ ছাড়া বাসাবাড়িতে হামলা, ডাকাতি এবং সহিংসতার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক জি আর ও সি আর মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লা কোতোয়ালি সদর মডেল থানায় দায়ের করা জি আর মামলা ৮৫০, তারিখ ১৪ নভেম্বর ২০২৪ এবং জি আর মামলা ৮১২, তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০২৫ উল্লেখযোগ্য। সাম্প্রতিক ঘটনায় ভুক্তভোগী পুনরায় কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি আর মামলা ৬১৫, তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০২৬ দায়ের করেন। এদিকে, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় অপহরণ ও সম্মানহানির অভিযোগ দায়ের করা হলে তা এস ডি আর নম্বর ৩৭২০ হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়। একই দিনে পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হয়, যার রিসিভড নম্বর ২৭৮৯। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিয়ে তদন্তভার কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখা পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে এখনো পর্যন্ত অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিক মহলসহ বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন, যাতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা যায়।