কুমিল্লায় লিফটের নিচে মিলল রংমিস্ত্রির লাশ, বন্ধ ছিল সিসি ক্যামেরা

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১৬ ঘন্টা আগে

কুমিল্লায় একটি ভবনের ক্যাপসুল লিফটের নিচ থেকে মো. কিরণ মিয়া নামের এক রংমিস্ত্রির রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরীর হাউজিং এস্টেটের ১নম্বর সেকশনের ‘জনতা ব্যাংক’ ভবন থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত কিরণ মিয়া (৪০) নগরীর দ্বিতীয় মুরাদপুর এলাকার সুন্দর আলীর ছেলে। নিহতের শরীরে বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এদিকে ঘটনার সময় রহস্যজনক কারণে ভবনের সিসি ক্যামেরা বন্ধ এবং দারোয়ান উধাও হয়ে গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার বেলা ১১টার দিকে নাশতা করার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন কিরণ মিয়া। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা তাকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। রাতে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদের সামনে, কেটিসিসির বিপরীত পাশে অবস্থিত ওই ভবনে তাকে খোঁজা শুরু হয়। ভবনের লিফটও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছিল।

একপর্যায়ে লিফটের মেকানিক রেটজিটেক লিমিটেডের রাজু ঘটনাস্থলে এসে লিফট খোলেন। এ সময় ক্যাপসুল লিফটের নিচে কিরণ মিয়ার রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকে ভবনের দারোয়ান পলাতক রয়েছে।

এদিকে স্থানীয়রা আরও জানান, এদিন দুপুরে ভবনের মালিকের ছেলে শুভ অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভাই সায়েমকে নিয়ে বাসা থেকে এয়ারপোর্টে রওনা হন। কিরণ মিয়া এ সময় উপস্থিত হয়ে সায়েমের কাছে বেতনের টাকা চাইতে গিয়েছিলেন। এ সময় তাকে মারধর করা হয়। ঘটনার সময় ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

রেটজিটেক লিমিটেডের কর্মচারী রাজু বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর তিনি ঘটনাস্থলে যান। তখন ভবনের লোকজন কিরণ মিয়াকে খুঁজছিলেন। লিফটে কেউ আছেন কিনা, সেটিও দেখার চেষ্টা করা হচ্ছিল। পরে লিফট খুললে নিচে লাশটি পাওয়া যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা মকবুল বলেন, লিফটটি জেনারেটরের মাধ্যমে চলছিল। একপর্যায়ে লিফটটি বন্ধ হয়ে যায়। তবে লিফট কীভাবে বন্ধ হলো এবং কিরণ মিয়া কীভাবে এর নিচে গেলেন, তার রহস্য প্রশাসন যেন বের করে। গরিবের পরিবার দেখে টাকা দিয়ে যেন ঘটনা ধামাচাপা না দেওয়া হয়।

ভবনের মালিক খোরশেদ আলম বলেন, আমরা সারাদিন খুঁজেও তাকে পাইনি। পরে ধারণা করি, তিনি হয়তো এখানে থাকতে পারেন। এরপর লিফটের নিচে খোঁজ করে লাশ পাওয়া যায়।

কোতোয়ালি মডেল থানার এএসআই শরীফ আহমেদ বলেন, বাড়ির মালিক ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তখন সেখানে অনেক লোকজন জড়ো হয়েছিলেন। এখন আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।