কুমিল্লায় বহুল আলোচিত কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১১)। ক্লুলেস ও চাঞ্চল্যকর এই হত্যার ঘটনায় জড়িত একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার র্যাব-১১ এর অধিনায়কের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ধর্মপুর এলাকার নুর ইসলামের ছেলে মোঃ সোহাগ (৩৪), একই এলাকার মৃত হারুন মিয়ার ছেলে ইসমাইল হোসেন জনি (২৮), মৃত সজল মিয়ার ছেলে মোঃ সুজন (৩২), আড়াইওরা এলাকার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে রাহাত হোসেন জুয়েল (২৭), আমড়াতলী এলাকার আমির হোসেনের ছেলে ইমরান হোসেন হৃদয় (৩৪)।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, গত ২৫ এপ্রিল সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় আইরিশ হোটেলের পাশ থেকে বুলেট বৈরাগী (৩৫) নামে এক কাস্টমস কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি চট্টগ্রামের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমিতে ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে রাতে কুমিল্লার বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। পথে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলার পর তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন সকালে সড়কের পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়, যার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালায়। এরই ধারাবাহিকতায় ২৬ এপ্রিল কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মো. সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, এমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল এবং মো. সুজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, পাওয়ার ব্যাংক, পোশাক ও ব্যাগসহ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সিএনজি, চাপাতি, সুইচ গিয়ার, স্ক্রু ড্রাইভার, ফোরজিং হ্যামার, প্লায়ার্স, মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র্যাব জানতে পারে, গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা মূলত রাতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের টার্গেট করে সিএনজি বা অটোরিকশায় তুলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাই করত। ঘটনার দিন গভীর রাতে জাগুরঝুলি বিশ্বরোড এলাকায় তারা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সিএনজি নিয়ে যাত্রী বেশে ওৎ পেতে ছিল। রাত প্রায় ৩টার দিকে বুলেট বৈরাগী বাস থেকে নেমে জাঙ্গালিয়া এলাকায় যাওয়ার জন্য সিএনজিতে উঠলে চক্রের সদস্যরা পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে ঘিরে ফেলে।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, সিএনজি চলার কিছুক্ষণের মধ্যেই যাত্রী সেজে থাকা দুই আসামি চাপাতি দিয়ে তাকে আঘাত করে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে আরেকজন সুইচ গিয়ার দিয়ে মারধর করে এবং তার কাছে থাকা নগদ টাকা ও মালামাল ছিনিয়ে নেয়। পরে কোটবাড়ি এলাকা অতিক্রম করার সময় চলন্ত সিএনজি থেকে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবহৃত অস্ত্র ও সিএনজি উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।