গাইবান্ধার এসপি-ওসিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এসআইয়ের স্ত্রীর মামলা

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

অন্যায়ভাবে ডেকে নিয়ে মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ আটক রাখার অভিযোগে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার (এসপি) নিশাত এ্যঞ্জেলা, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম তালুকদারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে।

বুধবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে গাইবান্ধা আমলী আদালত (সদর) সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

মামলার তৃতীয় আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারি-ইসলামপুর এলাকার মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে তারেকুজ্জামান তুহিন (২৩) কে। তুহিন এসআই মনিরুজ্জামানের বোনের সাবেক স্বামীর মামাতো ভাই বলে জানা গেছে।

মামলাটি দায়ের করেন গাইবান্ধা সদর থানার সাবেক পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামানের স্ত্রী কাজলী খাতুন। ২২ অক্টোবর শুনানি শেষে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ সুপার পদমর্যাদার নিচে নয়- এমন কোনো কর্মকর্তাকে দিয়ে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন এবং আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের সময় নির্ধারণ করেন।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পারিবারিক শত্রুতার জেরে এসআই মনিরুজ্জামানের বোনের সাবেক স্বামীর মামাতো ভাই তারেকুজ্জামান তুহিন ফেসবুকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ট্যাগ ব্যবহার করে ছবি প্রকাশের অভিযোগ তুলে মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দেন। সেই মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতেই গত ২৫ মার্চ সদর থানার ওসি শাহিনুর ইসলাম এসআই মনিরুজ্জামানকে ফোন করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে হাজির হতে বলেন। সেখানে এসআই মনিরুজ্জামানকে দীর্ঘ সময় বসিয়ে রেখে চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হয় এবং তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ও থানায় রাখা ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। পরে পুলিশ সুপার নির্দেশে ওই ডিভাইসগুলো সদর থানার ওসির কাছে আটক রাখা হয়। বিষয়টির প্রতিকার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন বাদী কাজলী খাতুন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জান্নাতুল ফেরদৌসি লাবনী জানান, ঘটনার সময় এসআই মনিরুজ্জামান গাইবান্ধা সদর থানায় কর্মরত ছিলেন। তার এক আত্মীয়ের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে এসপি অফিসে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তার মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ জব্দ করা হয়, যা পরে সদর থানার ওসির কাছে আটক রাখা হয়। বিষয়টির কোনো সমাধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতের স্মরণাপন্ন হন তার (মনিরুজ্জামান) স্ত্রী কাজলী খাতুন।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে চেয়ে পুলিশ সুপার নিশাত এ্যঞ্জেলার সঙ্গে কয়েক দফায় যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। ফলে তার কোনো মন্তব্য জানতে পারেনি বার্তা২৪.কম।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম তালুকদার মোবাইল ফোনে বার্তা২৪.কমকে বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মনিরুজ্জামানকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে ডাকা হয়। সেখানে এসপির কাছে মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তিনি অস্বীকার করেন। ফলে তার মোবাইল ফোন ও ল্যাপটব অনুসন্ধানের জন্য ঢাকায় সিআইডিতে পাঠানো হয়।

এসময় এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে ডেকে নেওয়া হলেও মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ রয়েছে।