চুরির অপবাদে শিশু ও মাকে পেটানোর অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১৫ ঘন্টা আগে

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মানিব্যাগ চুরির অপবাদে ১২ বছরের এক শিশু ও তার মাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে । মারধরের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

মারধরের পর আতঙ্কে ওই শিশু ও তার মা চার দিন ঘর থেকে বের হতে পারেননি বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের গামুরবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান চুন্নু উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী।

ভুক্তভোগী শিশুটির নাম জিসান (১২)। সে গামুরবুনিয়া গ্রামের মৃত বাচ্চু হাওলাদারের ছেলে।

ভুক্তভোগী শিশুটির মা নাজমা বেগম জানান, প্রায় দেড় বছর আগে তার স্বামী বাচ্চু হাওলাদার মারা যান। এর আগে জমি বন্ধক রাখার বিনিময়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান চুন্নুর ছোট ভাই আবদুল হাইকে তার স্বামী এক লাখ টাকা দিয়েছিলেন। তবে ওই টাকা লেনদেনের কোনো লিখিত কাগজ ছিল না।

নাজমার দাবি, স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি ওই টাকা লেনদেনের লিখিত প্রমাণ চেয়ে কয়েকবার আবদুল হাইয়ের কাছে যান। এতে চুন্নু ও তার ভাই ক্ষুব্ধ ছিলেন। বৃষ্টির কারণে সড়কে কাদা থাকায় চুন্নুর বাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে তাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন তারা।

নাজমা বলেন, গত শুক্রবার চুন্নু ও তার ভাই জিসান আমাদের ঘরে ডেকে নেন। সেখানে মানিব্যাগ চুরির অপবাদ দিয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে আমাদের মারধর করেন। তার অভিযোগ, জমি বন্ধকের এক লাখ টাকা দেওয়ার লিখিত প্রমাণ চাওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

কলাপাড়া উপজেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, সকালে বাচ্চাটা আর ওর মা এসে ভর্তি হয়েছেন। দুজনেরই শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। যে স্থানে আঘাত করেছে সেসব জায়গায় কালো দাগ হয়ে গিয়েছে। আমরা তাদের চিকিৎসা দিচ্ছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান চুন্নু গণমাধ্যমকে বলেন, ওই ছেলে চোর ও এলাকার সব জায়গায় চুরি করে বেড়ায়। সেদিন চুরি করার পর প্রশাসনকে বলেছি, তারা বলেছে দুই একটা ‘পিডান পুডান’ দিয়ে ছেড়ে দিন।

ওর মাকে কেন মেরেছেন—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ওরা এলাকার জাত চোর, সবাই জানে। আর আমরাও মানবিক, ওর মা সম্পর্কে আমার ভাগ্নি হয়। ওর মাকে বলেছি পোলা ঢাকা পাঠাইয়া দিতে। এই বলে তিনি ফোন কেটে দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলাপাড়া থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এরকম কোনো বিষয়ে আমাকে জানানো হয়নি আর এরকম অপেশাদার কথা আমরা বলিনি।