হত্যা মামলায় আসামি পলিটেকনিকের ছাত্রলীগকর্মী, বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ

মনোহগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২ years ago

কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী কাউছার আহম্মেদকে হত্যা মামলায় আসামি করার পর তার গ্রামের বাড়িতে পুলিশি তল্লাশির পাশাপাশি হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, জুলাই অভ্যুত্থানে কুমিল্লা নগরীতে হাসান আল পারভেজ হত্যা মামলায় কাউছারকে ৩ নম্বর আসামী করা হয়। যদিও কাউছারের বিরুদ্ধে করা হত্যা মামলাটি ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইমন হাসানের।

কাউছার আহম্মেদ মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের সাতঘরিয়া গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে। তিনি কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় হাসান আল পারভেজ হত্যা মামলায় তাকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়। মামলা নথিতে, মামলাটির বাদী হিসেবে পুলিশের এসআই জিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৯ জুলাই পুলিশ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি হামলার সময় কুমিল্লার কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসান আল পারভেজ নিহত হন। তার মৃত্যুর ঘটনায় পরবর্তী সময়ে হত্যা মামলা করা হলে সেখানে কাউছার আহম্মেদকে আসামি করা হয়।

এর একদিন পর ১১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় কাউছারের গ্রামের বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। স্থানীয় সূত্র জানায়, মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের সাতঘরিয়া গ্রামে কাউছারের বাড়িতে পুলিশ তদন্ত ও তল্লাশির জন্য যায়। এ সময় ঘরের তালা ভেঙে পুলিশ ভেতরে প্রবেশ করে। পরে পুলিশ চলে যাওয়ার পর স্থানীয় কিছু লোক তল্লাশি ও তদন্তের নামে ওই বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। তাদের বিরুদ্ধে বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট এবং আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কাউছার ও তার পরিবারকে ২০২৩ সালের ২৫ জানুয়ারির আগেই গ্রাম থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। এলাকাবাসীর কেউ কেউ বলেন, কাউছার ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং হাসান আল পারভেজ হত্যা মামলায় তার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে কাউছার আহম্মেদ বলেন, আমি কোনো হত্যা করিনি, শত্রুতা করে আমাকে আসামী বানানো হয়েছে। তারা আমাদের বাড়িঘর ভাংচুর করেছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

অন্যদিকে, কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাধারণ শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইমন হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কাউছারের বিরুদ্ধে করা হত্যা মামলাটি নিয়ে ভিন্ন দাবি করেন। তার ভাষ্য, ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে কাউছারকে ওই হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীও একই ধরনের দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছিলেন বিপুল চন্দ্র দে বলেন, মামলার বিষয়ে তদন্ত করেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো আমরা। চার্জশিট প্রক্রিয়ার কাজ চলমান। এছাড়া, অন্যায়ভাবে কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। আর বাড়িঘরের হামলার বিষয়ে আমি শুনেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।