টানা ৪০ দিন জামায়াতে নামাজ পড়ায় ৫৫ শিশু-কিশোরকে পুরস্কৃত করলো তেতাভূমি হিলফুল ফুজুল ফাউন্ডেশন

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

 

 

ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় ও নামাজমুখী হতে শিশু-কিশোরদের উদ্বুদ্ধ করতে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশিদল ইউনিয়নের উত্তর তেতাভূমি গ্রামে অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমী ও অনুপ্রেরণামূলক আয়োজন। তেতাভূমি হিলফুল ফুজুল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তেতাভূমি ঐতিহ্যবাহী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় ‘নামাজে উদ্বুদ্ধকরণ পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান’। শুক্রবার (২০ জুন) বিকেলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

 

এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের মাধ্যমে টানা ৪০ দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতে আদায় করায় পুরস্কৃত করা হয় গ্রামের ১৫ বছরের নিচের ৫৫ জন শিশু-কিশোরকে। তাদের প্রত্যেককে উপহারস্বরূপ তুলে দেওয়া হয় আকর্ষণীয় ৩২ পিসের ডিনার সেট। পাশাপাশি ১০ জন অভিভাবককে পুরস্কৃত করা হয়। যারা তাদের সাথে করে সন্তানদের মসজিদে নিয়ে আসেন এবং বাচ্চাদের সালাত পড়তে উদ্বুদ্ধ করেন

 

আয়োজক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিশুদের মাঝে নামাজের গুরুত্ব ও ধারাবাহিকতা গড়ে তুলতেই এই আয়োজন। ইসলামের মৌলিক ইবাদত নামাজের সঙ্গে শিশু-কিশোরদের আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যেই ছিল এই প্রয়াস।

শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন আয়োজকরা

শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন আয়োজকরা

অনুষ্ঠানে উপস্থিত মুসল্লিদের সামনে কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক বয়ান করেন দুই আলেম, মাওলানা মুফতি মাজেদ আহমেদ ও মাওলানা আল আমিন সালামি। তাদের আলোচনায় উঠে আসে নবীজির (সা.) নির্দেশনাগুলোর গুরুত্ব, নামাজের জীবনঘনিষ্ঠ প্রভাব এবং নৈতিক চরিত্র গঠনে এর ভূমিকা।

 

অনুষ্ঠানটি উপস্থিত থেকে সার্বিকভাবে পরিচালনায় ছিলেন কামরুজ্জামান টিপু, জসিম উদ্দিন, ওলিউর রহমান, মো. জুয়েল ও মো. রাসেল সহ আরো অনেকে।

 

এ সময় অভিভাবকদের হাতেও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

 

পাশাপাশি পুরো আয়োজনে দিকনির্দেশনা, পরিকল্পনা ও উৎসাহ দিয়ে সহায়তা করেছেন তোফাজ্জল বিন আবদুর রশিদ, আইয়ুব আলী, শাহিদুল ইসলাম, নাজমুল হুদা, সাজেদুল ইসলাম, মোহাম্মদ সুমন, আনিসুর রহমান, এরশাদুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন, মোহাম্মদ সেলিম মিয়া, হাবিবুর রহমান (আর্মি), মাহমুদুল হাসান সবুজ, সোহাগ আহমেদ, খায়রুল ইসলাম, কামাল হোসেন, মহিন উদ্দিন, রুবেল রানা, আবির আহমেদ জিহাদ, এমদাদুল হক, সাজু, হাবিবুর রহমান, জসিম উদ্দিন রাসেল, সাইদুর রহমান লিটন, সাগর, রিয়াদ, এমরান, সোহেল, জিল্লুর রহমানসহ আরও অনেকেই।

 

এসময়, আয়োজকরা জানান, ইসলাম ধর্মে নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। কুরআন শরীফে ৮২ বার সালাতের কথা বলা হয়েছে। রাসূল (সা.) বিদায় হজের ভাষণসহ জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত সালাতের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। আয়োজকদের ভাষায়, নামাজ মানুষকে অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে—এই ঈমানি বিশ্বাস থেকেই তাদের এই প্রয়াস।

 

তারা আরও জানান, তেতাভূমি হিলফুল ফুজুল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ধর্মীয় ও নৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। শিশুদের শৈশব থেকেই ধর্মীয় ও চারিত্রিক গুণে গড়ে তুলতে সমাজে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করবে ফাউন্ডেশনটি।

 

স্থানীয়দের মতে, এই আয়োজন শুধু পুরস্কার বিতরণ নয়, বরং একটি সমাজ সচেতন আন্দোলন। শিশুরা যখন ৪০ দিন নিয়মিত জামায়াতে নামাজ পড়ে একটি পুরস্কার পায়, তখন তাদের চোখে-মনেও জেগে ওঠে বিশ্বাস, দায়িত্ববোধ ও আত্মিক প্রশান্তি। ফলে এ আয়োজন গ্রামের ধর্মীয় ও নৈতিক আবহকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

 

তেতাভূমি হিলফুল ফুজুল ফাউন্ডেশনের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসীরাও। তারা বলেন, বর্তমান সময়ে যেখানে শিশু-কিশোরদের মধ্যে ধর্মীয় অনুশাসনের চর্চা কমে যাচ্ছে, সেখানে এই ধরনের উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে পারে। এটি নিঃসন্দেহে দেশের প্রতিটি এলাকায় অনুসরণীয় একটি দৃষ্টান্ত।