ডিম-মুরগি বেচে জমানো টাকা নিয়ে উধাও এনজিও

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৮ ঘন্টা আগে

‘ডিম-মুরগি বিক্রি করে জমানো টাকা তাদের দিয়েছি। এনজিওর লোক পরিচয় দেওয়ায় বিশ্বাস করেছিলাম। আমরা সাধারণ মানুষ আসল-নকল কীভাবে বুঝব? আমরা টাকা ফেরত এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে এভাবেই আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন সেলিনা নামে এক নারী। তার মতো উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের ভাট্টা, মিরেরপাড়া, মাগুরাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের আরও অনেক নারী এখন টাকা হারিয়ে দিশেহারা। তাদের অভিযোগ, এনজিও কর্মী পরিচয়ে ঋণ ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কয়েক দিনের মধ্যে তাদের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা নেওয়ার পর কথিত এনজিও চক্রটি উধাও হয়ে গেছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, চার-পাঁচজনের একটি দল নিজেদের কথিত ‘জয়িতা ফাউন্ডেশন’ এর লোক পরিচয় দিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে মানুষের কাছ থেকে সঞ্চয়ের নামে টাকা সংগ্রহ করে। পরে অফিসে কাগজপত্র জমা দেওয়ার কথা বলে তারা আর আসেনি। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

এ ঘটনায় শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) করগাঁও ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাট্টা গ্রামের শহীদ মিয়ার স্ত্রী নার্গিস আক্তার কটিয়াদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে একজনের নাম উল্লেখ করে কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কয়েক দিন আগে চার-পাঁচজনের একটি দল করগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে নিজেদের এনজিও কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয়। নিজেদের কথিত ‘জয়িতা ফাউন্ডেশন’ এর লোক দাবি করে তারা মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে স্থানীয়দের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করে। পরে এনজিও থেকে ঋণ, টাকা, গরু ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা বলে সঞ্চয়ের নামে টাকা সংগ্রহ করে।

এ সময় প্রতি এক লাখ টাকা সঞ্চয়ের বিপরীতে বছরে ১০ হাজার টাকা লাভ দেওয়ার কথাও বলা হয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা। তাদের কথায় বিশ্বাস করে বিভিন্ন নারী ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জমা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের মানিকখালী বাজারে তাদের অফিস রয়েছে বলে জানানো হয়। পরে কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য গত সোমবার ২০ থেকে ৩০ জন নারী সেখানে গিয়ে কথিত অফিসে কাউকে পাননি। এরপর তাদের দেওয়া মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরগুলোও বন্ধ পাওয়া যায়।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে দক্ষিণ ভাট্টা গ্রামের নার্গিস আক্তারের কাছ থেকে ৫০ হাজার, একই এলাকার সুকেল মিয়ার স্ত্রী সেলিনার কাছ থেকে ৩০ হাজার, মাগুরা গ্রামের রোজিনার কাছ থেকে ৪০ হাজার এবং আরও একজনের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া আরও অনেকের কাছ থেকেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে মানিকখালী এলাকায় অফিস নেওয়ার জন্য একটি বাসা ভাড়া নেওয়ার বিষয়েও বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলেছিল দলটি। সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) কাগজপত্র ও অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষরের কথা থাকলেও তারা সেখানে উপস্থিত হয়নি। পরে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে বাড়ির মালিকের পরিবারের সদস্যরা জানান।

এ ছাড়া মানিকখালী বাজারের ডেকোরেশন ব্যবসায়ী জামাল মিয়ার কাছ থেকে মালামাল নেওয়ার পর বিল পরিশোধ করা হয়নি বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বাসার মালিকের ছেলে মফিজুর রহমান সারুফ বলেন, ‘কথিত জয়িতা ফাউন্ডেশনের এনজিও কর্মী পরিচয় দিয়ে তারা আমার মায়ের কাছে অফিস ভাড়া নিতে এসেছিল। পরে কাগজপত্র দিয়ে সোমবার চুক্তি করার কথা ছিল। কিন্তু তারা আর আসেনি। ওই দিন কয়েকজন নারী-পুরুষও তাদের খোঁজে সেখানে আসেন।’

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কথিত এনজিও কর্মী আতিক হাসান ওরফে আতিকুর এবং জহিরুল ইসলামের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

করগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাদিম মোল্লা বলেন, ‘ঘটনার পর একজন ভুক্তভোগী আমাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। পাশাপাশি এলাকায় যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য মানুষকে সচেতন করা হবে।

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে প্রলোভনের মাধ্যমে এনজিও পরিচয় ব্যবহার করে একটি চক্র অপকর্ম করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন ও সজাগ থাকা জরুরি। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।