মীর আরশাদুল হক এনসিপিতে কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিবের পাশাপাশি নির্বাহী কাউন্সিলের সদস্য, মিডিয়া সেল ও শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য, পরিবেশ সেলের প্রধান এবং চট্টগ্রাম মহানগরের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম–১৬ আসনে দলটির মনোনয়নও পেয়েছিলেন তিনি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) সাবেক সহসভাপতি।
ছাত্রজীবনে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন আন্দোলন-প্রতিবাদেও যুক্ত ছিলেন মীর আরশাদুল হক। এর ধারাবাহিকতায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর তিনি প্রথমে জাতীয় নাগরিক কমিটিতে যুক্ত হন। অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণরা এনসিপি গঠন করলে তাতেও যোগ দেন তিনি।
এনসিপি নিয়ে হতাশার কথা জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রতিশ্রুতি নিয়ে এনসিপির যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু এনসিপির প্রতিষ্ঠা থেকে এখন পর্যন্ত গত ১০ মাসের অভিজ্ঞতায় আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে এই দল ও দলের নেতারা সে প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। যে স্বপ্ন ও সম্ভাবনা দেখে এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলাম, তার কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। দল ও বড় অংশের নেতারা ভুল পথে আছেন বলেই মনে করি আমি। এই ভুল পথে আমি চলতে পারি না। এই মুহূর্ত থেকে এনসিপির সঙ্গে আমার কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকবে। তাদের প্রতি শুভকামনা রইল।’
গণতন্ত্রে উত্তরণ এবং বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন আরশাদুল। তিনি লিখেছেন, ‘দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আমার কাছে মনে হচ্ছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করার কোনো বিকল্প নেই৷ জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী সময়ে তারেক রহমানের বিভিন্ন কার্যক্রম ও বক্তব্য পর্যালোচনা করে আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, এই মুহূর্তে সবাইকে ধারণ করে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতা ও সক্ষমতা তিনিই রাখেন।’
এই নেতা আরও লেখেন, ‘তরুণদের উচিত হবে পপুলিজম বা কোনো হুজুগে প্রভাবিত না হয়ে দেশের সামগ্রিক স্বার্থ, ভবিষ্যত ও কল্যাণের কথা বিবেচনা করে তারেক রহমানের জনকল্যাণমূলক ভিশন বাস্তবায়নে সহযোগিতা ও সমর্থন জানানো। আমি ব্যক্তিগতভাবে আমার পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে রাখলাম।’
মীর আরশাদুলের পদত্যাগের বিষয়ে এনসিপির কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে দলটির একটি সূত্র জানায়, এনসিপি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সমঝোতার আলোচনায় রয়েছে। এ বিষয়ে দলের একটি অংশের সমর্থন থাকলেও অন্য অংশ মানছে না। জামায়াতের সঙ্গে যেতে যাঁরা রাজি নন, তাঁদেরই একজন মীর আরশাদুল হক।
যোগাযোগ করা হলে মীর আরশাদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘এনসিপি সামগ্রিকভাবে ভুল পথে চলে গেছে। তারা তরুণদের নতুন দল হয়ে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে। এই দলে থেকে আগামী দিনের অনিশ্চয়তা ও কঠিন সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারব না বলে আমার মনে হয়েছে। সেজন্যই পদত্যাগ করেছি। দেশের স্বার্থে আমি বিএনপি ও তারেক রহমানকে সমর্থন করছি।’
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের কাছে ইতিমধ্যে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে জানান মীর আরশাদুল। তবে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে নাহিদ ও আখতার ফোন ধরেননি।