কথিত রয়েছে এক সময় দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) কমিশনারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগে অনেক হয়রানি করেছেন তিনি। এখন নিজেই দুদকের জালে ফেঁসে যাচ্ছেন তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দা আতিয়া বিলকিস।
তার দুর্নীতি অনিয়ম ও অবৈধ সম্পদের খোঁজে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)।ইতোমধ্যেই বিভিন্ন তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ নেয়ামুল আহসান গাজী।
পলাতক আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিকে দুদকের সবচেয়ে প্রভাবশালী কমিশনার মোজাম্মেল হক খান। তার সঙ্গে ব্যাপক দহরম মহরম ছিল আতিয়া বিলকিসের। সেই ঘনিষ্ঠতার সুযোগে দুদককে ব্যবহার করে অনেককে হয়রানি করেছেন, এখনই নিজের খোঁড়া গর্তেই তিনি পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন অনেক কর্মকর্তা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, দুদকের এক সময়কার প্রভাবশালী কমিশনার মোজাম্মেল হক খানের সঙ্গে ছিল তার ব্যাপক দহরম-মহরম। কমিশনার মোজাম্মেল হক খান দুদকে যোগদানের আগে ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে, তার আগে ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ বিভাগের সচিব। মোজাম্মেল হক খান জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব পদে থাকাকালে আতিয়া বিলকিসের পরিচয় হয়।
মোজাম্মেল হক খান দুদকে যোগদানের পর আগের পরিচয়ের সুত্র ধরে আতিয়া বিলকিস বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন। যারাই তার বিরুদ্ধে কোন কথা বলতেন তাকেই তিনি দুদক নিয়ে হয়রানি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রমোশন পেতে গেলে যেহেতু দুদকের এনওসি লাগে সেটাকে তিনি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতেন। এমনকি সে সময়কার ব্যবস্থাপনা পরিচালকদেরও তিনি পাত্তা দিতেন না। অফিসে আসা-যাওয়া করতেন তার খেয়াল খুশি মতো। দুদক কমিশনারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে অন্যরাও তাকে ঘাটাতে সাহস পেতো না।
সম্প্রতি তিনি ছেলেকে দেখার কথা বলে কানাডা সফর করেন। সরকারি ছুটি শেষ হলেও দেশে না এসে ডি-নথিতে ফাইল তোলেন। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তদন্তে নামে তিতাস গ্যাসের একটি কমিটি। আর সেই তদন্তে ওঠে এসেছে ভয়াবহ তথ্য।
ছুটি ছাড়াই বিদেশ সফরসহ তার একাধিক দেশের পাসপোর্টের তথ্য সামনে চলে এসেছে বলে জানা গেছে।
আইন অনুযায়ী বর্হিবাংলাদেশ ছুটি বাড়াতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে ছুটির আবেদন করতে হয়। কিন্তু আতিয়া বিলকিস কোন রকম পুর্বানুমতি কিংবা আবেদন ছাড়াই ৪দিন বেশি অবস্থান করেন কানাডা।
তদন্ত কমিটির প্রধান জেনারেল ম্যানেজার (অর্থ) মোঃ রশিদুল আলম বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, আমাকে আতিয়া বিলকিসের কানাডা সফরের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানাতে বলা হয়। আমি তার সঙ্গে কথা বলে দেখেছি মোটামুটি সঠিকেই বলেছে। সেখানে গিয়ে তিনি নাকি অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।
এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, হ্যাঁ এ কথা সঠিক তিনি কয়েকদিন বেশি ছিলেন। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে শুনেছি।
একদিকে অফিসিয়াল তদন্ত অন্যদিকে দুদকের অনুসন্ধানের খবরে অনেকেই উচ্ছাস প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন প্রকৃতির বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাকে। আতিয়া বিলকিস অনেক নিরীহ অফিসারকে চরম হয়রানি করেছেন। ক্ষমতা ব্যবহার করে উপযুক্ত হওয়ার আগেই প্রমোশন বাগিয়ে নিয়েছেন।
দুদকের দেওয়া নোটিশে তার পদোন্নতি সংক্রান্ত সকল রেকর্ডপত্র, মানবসম্পদ বিভাগে থাকাকালে বদলীকৃত কর্মকর্তাদের তথ্য, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে রূপগঞ্জের মুড়াপাড়ায় দেওয়া গ্যাস সংযোগের তথ্য চাওয়া হয়েছে। ওই সময়ে মুড়াপাড়ায় অবৈধ সংযোগ ছিল রমরমা। এছাড়া বিভিন্ন শিল্প কারখানায় গ্যাস সংযোগের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে কানাডায় পাচারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে একাধিক দফায় ফোন করা হলেও রিসিভ করেননি তিতাস গ্যাসের জেনারেল ম্যানেজার (জেনারেল সার্ভিসেস) সৈয়দা আতিয়া বিলকিস। এমনকি এসএম করলেও সাড়া দেননি