দেবিদ্বারে ‘অতিরিক্ত মদপানে’ সাবেক ছাত্রদল নেতাসহ দুইজনের মৃত্যু

দেবিদ্বার প্রতিনিধি।।
প্রকাশ: ২০ ঘন্টা আগে

কুমিল্লার দেবিদ্বারে মদপানে অসুস্থ হয়ে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরো চারজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক হওয়ায় তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
গত ২২ অক্টোবর রাতে দেবিদ্বার পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গুনাইঘর উত্তর পাড়ার ধান্নারপাড় এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
মারা যাওয়ারা হলেন- দেবিদ্বার পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গুনাইঘর উত্তর পাড়ার ধান্নারপাড় এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. সালাউদ্দিন (৩২) এবং উপজেলার হাপুড়খাড়া গ্রামের আলম মিয়ার ছেলে বাসার খান (৩১)। সালাউদ্দিন কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২২ অক্টোবর রাতে ধান্নারপাড় এলাকায় নাঈমের মামার বাড়িতে সালাউদ্দিন ও বাসার খানসহ কয়েকজন এক সঙ্গে মদপান করেন। এর কিছুক্ষণ পরই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসার জন্য তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন নিজ ঘরে সালাউদ্দিনকে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন প্রতিবেশীরা। পরে ঘরের দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তাকে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, অসুস্থ বাসার খানকে প্রথমে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে ২৫ অক্টোবর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় অসুস্থ অন্য চারজন হলেন- ধান্নারপাড় এলাকার আতিক (৩৩), শাহীন শাহ (২৮), মোহাম্মদ নাঈম (২৮) এবং এলাহাবাদ গ্রামের কাউছার। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুই যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি শুরুতেই প্রকাশ্যে আসেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথমে সালাউদ্দিনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদরোগের কথা প্রচার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে অতিরিক্ত মদপানের কারণে তাদের অসুস্থতা ও মৃত্যুর বিষয়টি সামনে আসে। এ বিষয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মাহমুদুল হাসান তামিম বলেন, “সালাউদ্দিন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছিল। পরবর্তীতে অতিরিক্ত মদপানের বিষয়টি আমরা জানতে পারি।”
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, “মাদকসংশ্লিষ্ট ঘটনা হওয়ায় সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার আশঙ্কায় পরিবার হয়তো বিষয়টি গোপন রাখতে চেয়েছিল। মরদেহ দাফনের পর সাংবাদিকদের মাধ্যমে পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরেছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”