নানাভাবে হয়রানীর শিকার মানবাধিকার কর্মী শুভ্র, আবেদন করেও মিলছে না প্রতিকার

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৪ ঘন্টা আগে

 

কুমিল্লার পেশাদার সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও একাধিক বিচারাধীন মামলার বাদী মওদুদ আবদুল্লাহ প্রকাশ শুভ্র ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইনগত সুরক্ষা চেয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, বিচারাধীন বিভিন্ন মামলার আসামি ও তাদের সহযোগী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি, ছিনতাই, অপহরণের চেষ্টা, চুরি, ডাকাতি, সাইবার হয়রানি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে নানাভাবে বাধা দিয়ে আসছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এসব ঘটনায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

 

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মওদুদ আবদুল্লাহ প্রকাশ শুভ্র কুমিল্লা নগরীর পুরাতন চৌধুরীপাড়া এলাকার আলোছায়া ভবনের বাসিন্দা। তিনি জাতীয় অনলাইন ও প্রকাশিত পত্রিকার একজন পেশাদার সাংবাদিক এবং মানবাধিকারকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার দাবি, বিচারাধীন মামলাগুলোর কারণে অভিযুক্তরা তাকে নিয়মিত অনুসরণ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে এবং তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে হয়রানি চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি পরিকল্পিতভাবে অপহরণ ও হত্যার অপচেষ্টাও করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিষয়টি তার নিয়োজিত আইনজীবীর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আদালতকে অবহিত করা হয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও টেলিভিশন গণমাধ্যমে এসব ঘটনা নিয়ে একাধিক সংবাদ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

 

আবেদনে বিচারাধীন একাধিক মামলার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা নং ৪১, জি আর নং ৮৫০, তারিখ ১৪ নভেম্বর ২০২৪। মামলাটি দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪২, ৩২৩, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯, ৪২৭, ৩৮৫, ৫০৬(২) ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা হয়েছে, যেখানে জখম ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক আমলযোগ্য অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা নং ৫১, জি আর নং ৮১২, তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০২৫, দণ্ডবিধির ৩৯২ ও ৩৪ ধারায় দায়ের হওয়া দস্যুতা সংক্রান্ত মামলাটিও বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। একই সঙ্গে কুমিল্লার সিআর মামলা নং ৬১৫/২৬, তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০২৬, দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩০৭, ৩৮৫, ৩৬৫, ৪২০, ৪৬৮, ৫০০, ৩৭৯, ৫০৬(২) ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় ধারাবাহিকভাবে চাঁদাবাজি, জালিয়াতি, অপহরণ, মানহানি ও অন্যান্য আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে কুমিল্লা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ১ এ বিচারাধীন রয়েছে।

 

লিখিত আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বিচারাধীন মামলার পাশাপাশি বিভিন্ন ঘটনায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি ও অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে কোতোয়ালী মডেল থানার জিডি নং ১৪০৭, তারিখ ১৯ মার্চ ২০২৬ এ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, মিথ্যাচার, ষড়যন্ত্র, সম্মানহানি এবং হত্যা ও অপহরণের প্রচেষ্টার অভিযোগ করা হয়। জিডি নং ১৩২৬, তারিখ ১৮ জুন ২০২৬ এ তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে মোবাইল নম্বর নিয়ন্ত্রণ, ফেসবুক আইডি হ্যাকিং, সাইবার প্রতারণা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা, গুম, খুন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া জিডি নং ১৩৫৭, তারিখ ১৯ জুন ২০২৬ এ বিচারাধীন মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের জন্য সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজি, ছুরিকাঘাতের হুমকি, মিথ্যা ষড়যন্ত্র এবং পেশাদার অপরাধীদের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হামলার অভিযোগ করা হয়েছে।

 

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব ঘটনার বিষয়ে এসডিআর নং ৪৬৬৬, তারিখ ৮ জুন ২০২৬ এবং এসডিআর নং ৬২১৬, তারিখ ২২ জুলাই ২০২৬ এর মাধ্যমে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ডকেট নং ১০৭৯৪, তারিখ ১ জুলাই ২০২৬ এবং পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অভিযোগ নং ৫১২৯/এম, তারিখ ১৮ জুলাই ২০২৬ দাখিল করা হয়েছে বলে আবেদনপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

 

সর্বশেষ ঘটনার বর্ণনায় মওদুদ আবদুল্লাহ শুভ্র অভিযোগ করেন, গত ২২ জুলাই ২০২৬ কুমিল্লা সদর রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে দুটি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল ও একটি মাইক্রোবাস তার বহনকারী অটোরিকশার গতিরোধ করে। এ সময় কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ ঘটনার পর ২৬ জুলাই ২০২৬ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তিনি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন বলে আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

আবেদনের মাধ্যমে তিনি বিচারাধীন জি আর ও সিআর মামলার বাদী হিসেবে তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনগত সুরক্ষা প্রদান, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মামলাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের জন্য কুমিল্লার পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।