পূর্বঘোষণা ছাড়াই কুমিল্লায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে গ্রাহকরা

সোহাইবুল ইসলাম সোহাগ।।
প্রকাশ: ৩ ঘন্টা আগে

পূর্বঘোষণা ছাড়াই কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। গ্যাসের চাপ একেবারে কমে যাওয়ার পর একপর্যায়ে অনেক এলাকায় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এতে রান্নাবান্না করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১০টার পর থেকে গ্যাসের চাপ একেবারে কমে যায়।
জানা যায়, কর্মজীবী পরিবার ও দুপুরের খাবার রান্না করতে যাওয়া মানুষজন পড়েছেন বিপাকে। নগরীর কাটাবিল, হযরতপাড়া, নুরপুর, হাউজিং এস্টেট, বারপাড়া, রাজগঞ্জ, চকবাজার, ছাতিপট্টি, মনোহরপুর, টমছমব্রিজ, বলরামপুর সুজানগরসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ না থাকার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সাধারণত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই গ্রাহকদের মাইকিং, বিজ্ঞপ্তি বা অন্যান্য মাধ্যমে জানিয়ে থাকে। কিন্তু বুধবার কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই বিকল্প ব্যবস্থা নিতে পারেননি। ফলে রান্না করতে না পেরে কেউ কেউ হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কিনে খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ঢুলিপাড়া এলাকার বাসিন্দা রফিক বলেন, ‘সকালে চুলায় অল্প কিছুক্ষণ গ্যাসের আগুন জ্বলছিল। কিন্তু সকাল ১০টার পর থেকে একেবারেই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। সাধারণত গ্যাস বন্ধ রাখার প্রয়োজন হলে আগে থেকে জানানো হয়। এবার কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই গ্যাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
হাউজিং এস্টেট জামে মসজিদের ইমাম হাসান বলেন, সকাল থেকেই এলাকায় গ্যাস নেই। বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো পূর্বঘোষণাও দেওয়া হয়নি। কখন গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সেটিও জানা যাচ্ছে না। তাঁর ভাষায়, ঘরে রান্না হয়নি। মসজিদে যাওয়ার আগে খেয়ে যাব, এখন সেটাও সম্ভব হচ্ছে না।
বলরামপুর এলাকার বাসিন্দা ফরিদা আক্তার পান্না বলেন, গ্যাস এখন নেই বললেই চলে। কখনো এলেও খুব অল্প সময়ের জন্য আসে। অথচ প্রতি মাসে নিয়মিত গ্যাসের বিল দিতে হচ্ছে। গ্যাস ব্যবহার করতে না পারলেও বিল দিতে হচ্ছে। এ সমস্যার সমাধান কবে হবে, সেটাই জানতে চাই।
এদিকে হঠাৎ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হওয়ার কারণ জানতে যোগাযোগ করা হলে কুমিল্লার বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস ডিপার্টমেন্টের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) প্রকৌশলী ছগীর আহমেদ বলেন, মহেশখালীতে গ্যাস-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তবে মহেশখালী কর্তৃপক্ষ তাদের বিস্তারিত কোনো কারণ জানায়নি।
তিনি বলেন, কত ঘণ্টা পর গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। হঠাৎ করে সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে, আমরাও আগে থেকে জানতাম না। শুধু কুমিল্লা শহর নয়, আরও অনেক এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।