বিদ্যুৎ অফিসে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলা-ভাঙচুর, কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৭ ঘন্টা আগে

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ঘনঘন লোডশেডিং ও এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ না থাকার প্রতিবাদে পিডিবির উপজেলা কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অফিসের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনা এক উপসহকারী প্রকৌশলীকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের শিমরাইল গ্রামের প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন গ্রাহক পিডিবির উপজেলা কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন অফিসে হামলা ও ভাঙচুর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ লোকজনকে সরিয়ে দেয়। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। হামলায় পিডিবির উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম আহত হয়েছেন। তিনি স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, ১৩ আগস্ট রাতে গ্রামের ট্রান্সফর্মার নষ্ট হওয়ার পর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এ ছাড়া এর আগেও প্রায় এক মাস আগে ট্রান্সফর্মার নষ্ট হয়েছিল। তখন নতুন ট্রান্সফরমারের পরিবর্তে পুরোনো একটি ট্রান্সফর্মার দেওয়া হয়। সেটিও কিছুদিন পর নষ্ট হয়ে যায়।

তাদের অভিযোগ, নতুন ট্রান্সফর্মার দেওয়ার কথা বলে পিডিবির পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল। টাকা দেওয়ার পরও এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যুৎ অফিসে যান।

তবে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পিডিবির উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম। তিনি বলেন, কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিক্ষুব্ধ লোকজন আমার ওপর হামলা শুরু করেন। ট্রান্সফরমারের জন্য ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে লাইন সংযোগ ও মেরামতের কাজে লাইনম্যানদের কিছু খরচপাতি সব জায়গায় দেওয়া হয়।

রেজাউল করিম আরও বলেন, এলাকাবাসী মূলত নতুন ট্রান্সফর্মার চেয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের বিভাগে ট্রান্সফরমারের সংকট থাকায় পুরোনো একটি ট্রান্সফর্মার দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা করেছেন।

পিডিবি ঈশ্বরগঞ্জের আবাসিক প্রকৌশলী হামজা ইমাম বলেন, শিমরাইল গ্রামের ট্রান্সফর্মার নষ্ট হওয়ার বিষয়টি একাধিকবার জানানো হয়েছিল। কিন্তু ট্রান্সফরমারের সংকট থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ট্রান্সফর্মার পেতে দেরি হয়েছে।

তিনি বলেন, গতকাল রাতেই একটি ট্রান্সফর্মার এসেছিল। কিন্তু সেটি পুরোনো হওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে অফিসে হামলা ও ভাঙচুর করেন। এতে আমাদের উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম আহত হয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু ও বয়স্করা দুর্ভোগে পড়েছেন। খাবার সংরক্ষণ, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও ব্যাহত হচ্ছে।

ওসি রবিউল আজম বলেন, দ্রুত ট্রান্সফর্মার স্থাপন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেওয়া হলে বিক্ষুব্ধ লোকজন সরে যান। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।