কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় এক কলেজ ছাত্রকে অপহরণ করে নির্মমভাবে মারধর ও হত্যার উদ্দেশ্যে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। আহত ছাত্র বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এই ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীর মা মোসাঃ ফেরদৌসী আক্তার (৩৬) বুড়িচং থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি বাহেরচর গ্রামের মোঃ মোসলেম উদ্দিনের স্ত্রী।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা হলো —
১) মোঃ সাইফুল ইসলাম (বাবু) (৪৫), ২) মোঃ নাফিজ উদ্দিন (১৯), ৩) মোঃ জহির (৪২),
৪) আবদুল আলিম (৪৫),
এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ফেরদৌসী আক্তার অভিযোগে জানান, তার ছেলে তোহিন (১৯) বুড়িচং এরশাদ ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। পূর্ববিরোধের জেরে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তার ছেলেকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল।
গত ২০ অক্টোবর রাত ৮টা ৩০ মিনিটে শ্রীপুর গ্রামের কামাল মিয়ার বাড়ির সামনে প্রথমে তোহিনকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। এরপর ১নং অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামের বাড়ির পূর্ব পাশের বিল্ডিং ঘরে নিয়ে গিয়ে লোহার রড ও এসএস পাইপ দিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করে।
এতে তোহিনের হাত-পা ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। পরে সে বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার করলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসে। এ সময় অভিযুক্তরা তার মোবাইল ফোন (মূল্য আনুমানিক ১৫ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেয় এবং তার বাবা-মাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত তোহিনকে প্রথমে বুড়িচং সরকারি হাসপাতালে এবং পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছে এবং এতে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা প্রয়োজন।
বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিজুল হক জানান, অভিযোগটি হাতে পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে