ব্রাহ্মণপাড়া মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী  কলেজ প্রাঙ্গণে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে দুর্লভ লাল সোনাইল

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১৩ ঘন্টা আগে

সবুজেঘেরা শান্ত-স্নিগ্ধ পরিবেশের মাঝে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ প্রাঙ্গণে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে দৃষ্টিনন্দন দুর্লভ লাল সোনাইল ফুল। এ যেন প্রকৃতির আঁকা এক অনবদ্য রঙিন ছবি।

লালচে-গোলাপি রঙের এই অপরূপ ফুল কলেজ প্রাঙ্গণের পরিবেশকে করে তুলেছে আরও মনোরম ও প্রাণবন্ত। ফুলপ্রেমীসহ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয়রা নয়নাভিরাম এ ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন।

লাল সোনাইল বা ক্যাসিয়া জাভানিকা দেশের তুলনামূলকভাবে দুর্লভ ফুলের মধ্যে অন্যতম। এর বৈজ্ঞানিক নাম ক্যাসিয়া জাভানিকা। এর ইংরেজি নাম বার্মিস পিঙ্ক ক্যাসিয়া। এটি ফ্যাবেসি পরিবারের একটি উদ্ভিদ। এর আদি নিবাস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, কিন্তু খুব বেশি জন্মায় উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে অন্যান্য গাছের সঙ্গে কলেজ প্রাঙ্গণে এই লাল সোনাইল গাছের চারা রোপণ করা হয়। বর্তমানে কলেজের মূল ফটকের কাছাকাছি কলেজটির নতুন ভবন ও কলেজ মাঠের পাশে এ গাছটি চোখে পড়ে। বসন্ত ও গ্রীষ্মের শুরুতেই যখন গাছে গাছে ফুলের সমারোহ দেখা যায়, তখন পুরো ক্যাম্পাস যেন নান রঙের অপরূপ ফুলে নতুন সাজে সেজে ওঠে। বর্তমান সময়ে অন্যান্য ফুলের সঙ্গে লাল সোনাইল ফুল কলেজ প্রাঙ্গণকে নান্দনিক সাজে সাজিয়ে তুলেছে।

কলেজের শিক্ষার্থী মাহিমা সুলতানা মৌ বলেন, প্রতিদিন কলেজে প্রবেশের সময় গেট দিয়ে ঢুকতেই লাল সোনাইল ফুলগুলো চোখে পড়ে। এত সুন্দর রঙের ফুল দেখলে মন এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। পড়াশোনার চাপের মধ্যেও ফুলগুলো আমাদের আনন্দ দেয়। সোনাইল ফুল ছাড়াও আমাদের কলেজ প্রাঙ্গণে আরও নানারকম ফুল ফুটেছে। এসব ফুলের সৌন্দর্যে আমরা বিমোহিত হচ্ছি।

কলেজ প্রাঙ্গণে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে দুর্লভ লাল সোনাইল

কলেজের আরেক শিক্ষার্থী তানভীর আহসান অর্ক বলেন, কলেজ শেষে কলেজ মাঠে বসে বন্ধুদের সঙ্গে যখন আড্ডা দিই, তখন মাথার ওপর লাল সোনাইলের ফুলগুলো হালকা বাতাসে দুলতে থাকে। এ দৃশ্য যেন স্বর্গীয়, অসাধারণ অনুভূতির। মনে হয় যেন প্রকৃতি আমাদের জন্য বিশেষ উপহার দিয়েছে। চোখজুড়ানো ফুলে সোনাইল গাছটি আমাদের কলেজকে অন্যরকম সৌন্দর্যে রাঙিয়ে তুলেছে।

স্থানীয় সাংবাদিক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রকৃতির সৌন্দর্য আর শিক্ষার পরিবেশ, এই দুইয়ের অনন্য মেলবন্ধনে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ প্রাঙ্গণে লাল সোনাইল যেন হয়ে উঠেছে নীরব সৌন্দর্যের দূত। এর লাল-গোলাপি রঙের আভা শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের মুগ্ধ করছে।

কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন কালবেলাকে বলেন, আমাদের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু পাঠদানেই সীমাবদ্ধ নয়, আমরা চাই শিক্ষার্থীরা একটি সুন্দর ও প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে উঠুক। এতে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা গভীর হবে।

তিনি বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসে বিভিন্ন জাতের ফুল ও ফলদ গাছ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম লাল সোনাইল। লাল সোনাইলের মতো দৃষ্টিনন্দন গাছগুলো ক্যাম্পাসে সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রশান্তি এনে দিচ্ছে। ভবিষ্যতেও আমরা আরও বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা করছি। প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং প্রকৃতির বিস্তার ঘটাতে শিক্ষার্থীদের আমরা উদ্বুদ্ধ করছি।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (ইউনানি) ডা. মোহাম্মদ সোহেল রানা কালবেলাকে বলেন, ক্যাসিয়া জাভানিকা বা লাল সোনাইল ফুল দেখতে বেশ চমৎকার। এ ফুলের সৌন্দর্য যেকোনো বয়সী মানুষকে অনায়াসেই আকৃষ্ট করবে। এ ফুলের লাল-গোলাপি রঙের সৌন্দর্য সত্যিই অসাধারণ সুন্দর।

লাল সোনাইল গাছের উপকারিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রকৃতির এই ধরনের গাছ শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, মানব স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। ঐতিহ্যগতভাবে ক্যাসিয়া প্রজাতির বিভিন্ন অংশ ভেষজ চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।

বিশেষ করে হজমজনিত সমস্যা ও শরীরের কিছু সাধারণ অসুস্থতায় এসব গাছের নির্যাস উপকারী বলে বিবেচিত। তবে তা সরাসরি ওষুধ হিসেবে ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সোনাইল গাছসহ দুর্লভ গাছগুলো সংরক্ষণ করা এবং নতুন করে রোপণ করা আমাদের সবার দায়িত্ব।