খাদ্যমন্ত্রীর অগোচরে এপিএসের টাঙ্গাইলের নাগরপুর খাদ্যগুদাম পরিদর্শন ঘিরে এবার বিদায় নিলেন মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) মো. রফিকুল ইসলাম। মন্ত্রীর অনুমোদন ছাড়াই সরকারি সফরসূচি তৈরির অভিযোগে এর আগে এপিএস মো. আবদুল আওয়ালকে (বুলবুল) অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। একই ঘটনায় এবার সরিয়ে দেওয়া হলো সফরসূচিতে স্বাক্ষরকারী পিওকেও। অননুমোদিত সফরসূচি তৈরিতে তার ভূমিকার অভিযোগেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার জারি করা এক অফিস আদেশে রফিকুল ইসলামকে মন্ত্রীর দপ্তরের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ক্ষেমালিকা চাকমা রফিকুল ইসলামকে দপ্তরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে কী কারণে তাকে সরানো হয়েছে, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ অক্টোবর এপিএস আবদুল আওয়ালের টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ও খাদ্যগুদাম পরিদর্শনের জন্য একটি সরকারি সফরসূচি জারি করা হয়। মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের স্বাক্ষরে জারি করা ওই সূচি অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর পরিদর্শনে যান আবদুল আওয়াল।
সফরসূচিতে ঢাকার মোহাম্মদপুরে এপিএসের নিজ বাসা থেকে যাত্রা শুরু এবং পরিদর্শন শেষে আবার বাসায় ফেরার কথা উল্লেখ করা হয়। সফরে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়। একই সঙ্গে সরকারি গাড়ির জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে খাদ্য অধিদপ্তরের পরিবহন পুলের পরিচালককেও অনুলিপি দেওয়া হয়েছিল।
ওই সফরে আবদুল আওয়ালের সঙ্গে কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাও ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে মন্ত্রণালয় সূত্রের দাবি, এ সফরের বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম কিছুই জানতেন না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এর পরই এপিএস আবদুল আওয়ালকে মৌখিকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় সফরসূচি তৈরিতে পিও রফিকুল ইসলামের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হয়। পরে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। সর্বশেষ শনিবার তাকেও মন্ত্রীর দপ্তরের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো।