কুমিল্লা রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে সার্বক্ষণিক একজন গেটম্যান সিগন্যালের কাজে নিয়োজিত থাকেন। রোববার ভোরে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনটির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছিল না গেটম্যানের। গেটম্যান বেড়িয়ার না ফেলানোর কারণে মামুন পরিবহণ নামের যাত্রীবাহী বাসটি সোজা রেলক্রসিংয়ে উঠে যায়। এতে মুহূর্তের মধ্যেই বাসটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। স্থানীয়রা বাস থেকে হতাহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় ১২ জন বাসযাত্রী নিহত হন।
রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঢাকাগামী প্রতিটি ট্রেন লালমাই ক্রস করার সঙ্গে সঙ্গে পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ের গেটম্যান সিগন্যাল পেয়ে থাকেন। তখন ওই গেটম্যান বেড়িয়ার ফেলে সিগন্যাল দিয়ে দেয়। কিন্তু ঢাকা মেইল ট্রেনের সঙ্গে গেটম্যানের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল বলে আমরা ধারণা করছি। আমরা গেটম্যানদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। ঘটনার সঠিক কারণ খুঁজতে আমরা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু রেজা হাসান বলেন, নিহত ১২ জনের লাশ নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। ঘটনা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রোববার ভোর ৩টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় মামুন পরিবহন নামে একটি যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে যাওয়া মেইল ট্রেন। বাসটিকে ধাক্কা দিয়ে অন্তত ১ কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেনটি। এতে একে একে ১২ জনের প্রাণহানি ঘটে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন হাইওয়ে পুলিশ এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে পৃথক চারটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।