লালমাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচন নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ

এক সভাপতি প্রার্থীকে অপহরণ করে অন্য প্রার্থীকে সভাপতি ঘোষণা
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৮ মাস আগে

কুমিল্লার লালমাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির  আহবায়ক কমিটির ১নং সদস্য মো: শাহজাহান মজুমদারকে  বিএনপির সম্মেলন স্থল থেকে অপহরণ ও মারধরের  অভিযোগ উঠেছে। যাতে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করতে পারেন সেই জন্য তাকে অপহরন করা হয়। পরে সম্মেলন ও নির্বাচনের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় । গতকাল মঙ্গলবার রাতে অপহরণ থেকে উদ্ধার হয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন সভাপতি প্রার্থী মো: শাহজাহান মজুমদার। তিনি তাকে অপহরন ও মারধর করার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বি  প্রার্থী মাসুদ করিমকে দায়ী করেন।মঙ্গলবার (২৬ আগষ্ট) বিকেল ৪টায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগঞ্জ টিএ হাই স্কুল এন্ড কলেজ মাঠের  বিএনপির সম্মেলন স্থল থেকে তাকেসহ দুই বিএনপি নেতাকে মারধর করে উঠিয়ে নিয়ে যায় প্রতিদ্বন্ধী সভাপতি প্রার্থী ও লালমাই উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মাসুদ করিম মাসুদের সমর্থিতরা। অন্য অপহৃত হলেন সভাপতি প্রার্থী শাহজাহান মজুমদারের প্রস্তাবকারী গোলাম আজম মজুমদার শাহ পরান। অপহরণের  আধা ঘন্টা পর প্রস্তাবকারী  গোলাম আজম মজুমদার শাহ পরানকে সদর দক্ষিণ উপজেলার পরানপুর এলাকায় ছেড়ে দিলেও সভাপতি প্রার্থী শাহ জাহানকে অপহরণ কারীরা মোটর সাইকেল যোগে অন্যত্র নিয়ে যায়।বিষয়টি জানাজানি হলে বিএনপির  সম্মেলন ও নির্বাচনের পর এবং  অপহরণের সাড়ে ৩ ঘন্টা পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শাহজাহানকে বাগমারা উত্তর বাজারস্থ ব্রিজের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়।  পরে তার সমর্থিতরা তাকে উদ্ধার করে লাকসামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা করায়।

মুক্তির পর সভাপতি প্রার্থী শাহজাহান তাৎক্ষনিক এক সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, আমাকে ভোটে পরাজিত করতে পারবে না জেনে আমার প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী মাসুদ করিম মাসুদের সমর্থিত ভুলইন দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিনের নেতৃত্বে যুবদল- ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী আমাকে সম্মেলন স্থল থেকে অপহরণ করে পরানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আটকে রাখে। অপহরণকারীদের কাছে একটা ফোন আসলে রাত সাড়ে ৭টায় আমাকে বাগমারায় এনে ছেড়ে দেওয়া হয়। আমার অনুপস্থিতিতে একতরফাভাবে বিনাপ্রতিদ্বন্ধীতায় মাসুদ করিমকে সভাপতি ঘোষণা আমি মানি না। নতুন করে আমি লালমাই উপজেলা সম্মেলন আয়োজনের দাবী জানাই।

সভাপতি প্রার্থী শাহজাহান কেন্দ্রীয় বিএনপি ও জেলা বিএনপির আহবায়ক ও সদস্য সচিবের কাছে অবৈধ ভাবে জালিয়াতি করে এক তরফা নির্বাচনের মাধ্যমে মাসুদ  করিমকে যেভাবে সভাপতি করা হয়েছে তা বাতিলের দাবি জানান।

প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী শাহজাহানকে মারধর ও অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে খালি মাঠে একক ভাবে সভাপতি হয়েছেন বলে শাহজাহানের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সদ্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত  লালমাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাসুদ করিম গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় দৈনিক কুমিল্লার জমিনকে বলেন, এই অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

সভাপতি প্রার্থী শাহজাহান অবৈধ এই নির্বাচন বাতিল চেয়েছেন এই বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এড. আলী আক্কাছ বলেন, রাতে (মঙ্গলবার) আমাকে শাহজাহান ফোন করে তার অপহরণের কথা জানিয়ে নির্বাচন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। আমি বলেছি, এখন এ বিষয় আর আমার হাতে নেই। কেন্দ্রীয় ও জেলা বিএনপির এখতিয়ার। তারা কি করবেন এটা তাদের বিষয়। নির্বাচনের আগে আমি যখন  রুল কল করি তখন শাহজাহানকে না পেয়ে তাকে খবর দিতে বলি। কিন্তু তখন একটি অংশ আমাকে জানিয়েছেন আমরা আপোষ হয়ে গেছি। কিন্তু আমি বলেছি, আপোষ হলে তো আমার সামনে আসতে হবে। তারপরও আমি বেশ কয়েকবার সভাপতি প্রার্থী শাহজাহানকে মাইকে ডাকি। সব শেষ তাকে না পেয়ে একক প্রার্থী হিসেবে মাসুদ করিমকে সভাপতি ঘোষণা করি। এখন শাহজাহান যদি মনে করে তাকে অপহরণ করে  এই কাজ করেছে তাহলে তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপি ও জেলা বিএনপির কাছে আপিল করতে পারেন।