স্থানীয়রা বলছেন ড. মোশাররফ যদি নির্ভার হয় তাহলে সেলিম ভূঁইয়া যাবে কোনদিকে? তিনি কি নিজ উপজেলা ছেড়ে অন্য আসনে মনোনয়ন চাইবেন? অন্য আসনে তাকে মেনে নেবে দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা? এসব আলোচনা, জল্পনা-কল্পনা ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কুমিল্লা-১ আসনে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তিনি ওই আসন থেকে বারবার নির্বাচিত হয়ে আসছেন। তাছাড়া সিনিয়র রাজনৈতিক নেতা হিসাবে তিনি এলাকার সব শ্রেণিপেশার মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের মনোনয়ন নিয়ে মোটেও ভাবছেন না তার অনুসারীরা। তিনি মনোনয়ন পাবেন এবং বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে এমপি মন্ত্রী হবেন এমনটাই প্রত্যাশা তার নেতাকর্মীদের। তবে আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে কুমিল্ল-১ আসনের সঙ্গে মেঘনাকে যুক্ত করায় চরম বিপাকে পড়েছেন অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া। তিনি মেঘনা উপজেলার বাসিন্দা। যে আসনে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের মতো এতবড় মাপের নেতা রয়েছেন, সেখানে অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনাই ক্ষীণ বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তাই সেলিম ভূঁইয়া তার মেঘনা উপজেলাকে কুমিল্লা-২ আসনে হোমনার সঙ্গে যুক্ত করার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এদিকে আইনি লড়াইয়ে আসন ফিরে না পেলে সেলিম ভূঁইয়া কোন পথে হাঁটবেন? তিনি কি খন্দকার মোশাররফের সঙ্গে মনোনয়ন চাইবেন? নাকি পাশের কুমিল্লা-২ আসনে মনোনয়ন চাইবেন? হোমনায় বিএনপির বড় একটি অংশ সেলিম ভূঁইয়ার বিরোধিতা করেন। তাহলে আগামী নির্বাচনে এ নেতার গন্তব্য কোন পথে? এলাকায় এমন নানা গুঞ্জন এবং আলোচনা চলছে।
কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি বোরহান উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ড. মোশাররফ স্যারের মনোনয়ন নিয়ে আমরা নির্ভার। আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিনি মনোনয়ন পাবেন এমপি এবং মন্ত্রী হবেন এমনটাই আমরা বিশ্বাস করি।
দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এই অঞ্চলে বিএনপির বীজ বপন করেছেন। তিনি এই সংসদীয় আসনেই নয়, আশপাশের এলাকাতেও ব্যাপক জনপ্রিয়। আমরা আমাদের নেতার মনোনয়ন নিয়ে কোনো চিন্তা করি না।
এ বিষয়ে কুমিল্লা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, মেঘনা উপজেলাকে পূর্বের মতো কুমিল্লা-২ আসনে হোমনার সঙ্গে যুক্ত করার জন্য আমি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আইনি লড়াই করে আসন পুনরুদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। তিনি বলেন, আসন পুনর্বিন্যাস করে মেঘনার মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে। মেঘনার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা হোমনার সঙ্গে আমাদের সংসদীয় আসন। মেঘনার মানুষের দাবি আদায়ে প্রয়োজনে আন্দোলন করা হবে।
এ দিকে দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলার একাধিক নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ করলে তারা জানান, আসন পূর্নবিন্যাসের পর নাকে সরিষা তৈল দিয়ে আরামে ঘুমাচ্ছেন ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন। আর প্রথম বারের মতো এমপি হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে কাজ করা অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া কাটাচ্ছেন নির্ঘুম রাত।