শাসনগাছায় ২০ বছরের পুরোনো রাস্তায় দেয়াল, চলাচলে ভোগান্তি ৩০০ পরিবারের

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১ দিন আগে

শহরতলীর আদর্শ সদর উপজেলার শাসনগাছা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত একটি চলাচলের রাস্তায় দেয়াল নির্মাণকে কেন্দ্র করে তীব্র বিরোধ ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ২০ বছর ধরে ব্যবহৃত ওই রাস্তাটি হঠাৎ করে বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয় আরেক বাসিন্দা খলিলুর রহমান, ফলে অন্তত ৩০০ পরিবারের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, শাসনগাছা ঈদগাহ সংলগ্ন ঈদা গাজী বাড়ির এই রাস্তাটি বহু বছর ধরে এলাকাবাসীর একমাত্র সহজ যাতায়াত পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। তবে সম্প্রতি খলিলুর রহমান রাস্তাটির একটি অংশ নিজের ক্রয়কৃত জমি দাবি করে সেখানে দেয়াল তুলে দেন। এতে করে পুরো রাস্তা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। যদিও দেয়ালের পাশে মাত্র তিন ফুট জায়গা পায়ে হাঁটার জন্য খোলা রাখা হয়েছে, তবুও তা দিয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।

স্থানীয় অন্তত ১০ জন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তা ব্যবহার করে আসছেন এবং হঠাৎ করে এভাবে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। তাদের দাবি, রাস্তা পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক। একই সঙ্গে তারা আরও অভিযোগ করেন, খলিলুর রহমান ও আরেক বিএনপি নেতা কামাল হোসেন নাকি রাস্তা খুলে দেওয়ার বিনিময়ে দুই কোটি টাকা দাবি করেছেন, যা তাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার মাঝ বরাবর ইটের দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে এবং পাশে সরু একটি পথ রাখা হয়েছে। এতে জরুরি প্রয়োজনে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের চলাচলও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত খলিলুর রহমান। এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট জমিটি তার বৈধভাবে ক্রয়কৃত সম্পত্তি এবং সেখানে দেয়াল নির্মাণ তার অধিকার। তিনি বলেন, এলাকাবাসীর চলাচলের জন্য আরেকটি বিকল্প রাস্তা রয়েছে। অতীতে তার জায়গায় দেয়াল ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ইয়াকুব আলী প্রভাব খাটিয়ে সেই দেয়াল ভেঙে রাস্তায় রূপ দেন। বর্তমানে তিনি তার জমিতে পুনরায় দেয়াল নির্মাণ করেছেন, তবে মানবিক কারণে একটি সরু পথ খোলা রেখেছেন। চাঁদা দাবির অভিযোগও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন খলিলুর রহমান।

  • এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।