জনগণের টাকায় বেতন, কিন্তু আচরণ যেন নবাবের। কাজের চাপের অজুহাত দেখিয়ে নিজের দায়িত্বের কাজ না করে বাইরে করার নির্দেশ সরকারি কর্মকর্তার। কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবি ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা জুয়েলের বিরুদ্ধে এমন একটি অভিযোগ করেন সেবা নিতে আসা গ্রাহকরা। গতকাল ২৪ জুন (মঙ্গলবার) সকাল ১১টায় ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে এমন চিত্রটি দেখতে পাওয়া যায়। একজন গ্রাহক সরকারি করের ফি জমা দেওয়ার জন্য আবেদন করতে ইউনিয়ন অফিসে গেলে তাঁর সাথে ঔদ্ধত্য আচরণ ও বাইরের দোকান থেকে কাজ করার কথা বলেন জুয়েল। দুই-তিন মনিটের একটি কাজ করে দেওয়ার সময় নেই তাঁর হাতে। সেবা গ্রহণকারী মোহাম্মদ আকরাম খান, একই ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি অভিযোগ করেন, “আমি সরকারি কর জমা দেওয়ার জন্য আবেদন করতে ইউনিয়ন পরিষদে আসি। আসার পর যখন আবেদন করতে যাই, তখন উদ্যোক্তা জুয়েল আমার কাজটি করতে রাজি হননি। তাঁর হাতে সময় নেই, এই অজুহাতে তিনি আমাকে ফিরিয়ে দেন। আমি যখন বললাম, ‘এটা কার দায়িত্ব?’ তখন তিনি আমাকে বলেন, ‘বাইরের দোকান থেকে করে নিন। দুই মিনিটের একটি কাজ করতে যদি আমরা এভাবে ভোগান্তিতে পড়ি, তাহলে সরকার তাদেরকে কেন বসিয়ে রাখছে? এটা কি সেই ডিজিটাল বাংলাদেশ, যেখানে মানুষ সেবা নিতে এসে হয়রানির শিকার হয়? প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কি এসব চিত্র জানা নেই?” সরেজমিনে দেখা যায়, জুয়েল রানা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মরত। ডিজিটাল সেবা প্রদানের মাধ্যমে তিনি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদন, নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ, চারিত্রিক সনদ প্রদান, সরকারি প্রকল্প বা ভাতাভোগীদের তথ্য সরবরাহ, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি বিষয়ে পরামর্শ প্রদান এবং অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণের কাজ করে থাকেন। কিন্তু কাজের ভেতরে অসচ্ছতা ও অবহেলার ছাপ রয়েছে পুরোপুরি। পাঁচথুবি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আহসান হাবিব বলেন, “আমাদের ডিজিটাল সেক্টরে কাজ করার জন্য চারজন লোক নিয়োজিত। একজন ছুটিতে আছে, আরেকজন রাত ১১টায় বাড়ি গেছে। তাই এখন দুইজন কাজ করছে। এ কারণে তাদের ওপর কাজের চাপ বেড়ে গেছে। তাই তিনি কাজটা করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। যদিও তার এটা করা উচিত হয়নি। কাজের চাপে বলে ফেলেছেন, ‘বাইরে থেকে করে নেন’। আমি এখনই এটা করার ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমাদের লোকবল সংকট, আরও লোক দরকার।” অভিযোগের বিষয়ে জানতে জুয়েলের রুমে গেলে তিনি সাংবাদিকদের সামনেও কাজটি করতে রাজি হননি। এ সময় তাকে একাধিকবার ফোনে অন্য কারো সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করতে দেখা যায়। এটা তাঁর নিজের কাজ এ কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, “আমার হাতে অনেকগুলো কাজ জমে আছে। উপর থেকে নির্দেশ আছে সকল কাজ বাদ দিয়ে হাতে থাকা কাজগুলো আগে শেষ করতে। তাই আমি তাকে বলেছি, এটা বাইরে থেকে করে নিন।” সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে চোখ রাঙানো, কর্কশ ভাষা ব্যবহার, আর অকারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা এসব যেন নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউনিয়ন পরিষদে। এসব দেখার যেন কেউ নেই। এছাড়াও ঘুষ ছাড়া নির্দিষ্ট সময়ে কাজ সম্পন্ন করার উদাহরণ খুব কমই আছে।