সোমবার (২৬ মে) সচিবালয়ের ভেতরে বাদামতলা থেকে এ কর্মসূচি শুরু করেন সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সরজমিনে দেখা যায়, কর্মচারীরা কাজ বন্ধ রেখে সচিবালয়ের ভেতরে বিক্ষোভে করছেন। এ সময় জারিকৃত অধ্যাদেশকে অবৈধ কালো আইন উল্লেখ করে, এ আইন বাতিলের দাবিতে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করছেন তারা।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ মে ) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সাপেক্ষে অনুমোদন দেওয়া হলেও খসড়াটি পর্যালোচনার জন্য চারজন উপদেষ্টাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারা হলেন- আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান এবং গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।
এদিকে গতকাল বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি মো. বাদিউল কবীর অধ্যাদেশকে ‘কালাকানুন’ আখ্যায়িত করে জানান, এটি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। এরপর সচিবালয় চত্বরের বাদামতলায় অবস্থান নেন কর্মচারীরা। পরে অবশ্য উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পরিষদের নেতারা। দুপুর দেড়টার দিকে তারা কর্মসূচি স্থগিত করেন।
তবে অধ্যাদেশ জারির পর আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা সোমবার (আজ) ১১টায় বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।
প্রশাসন বিশ্লেষক ও সাবেক সচিব এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদার কালবেলাকে বলেন, প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য কিছুটা কড়াকড়ি বিধানের দরকার আছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেভাবে লাগামছাড়া চলছেন, যখন-তখন প্রশাসনকে অস্থির করার চেষ্টা করছেন—এটা কাম্য নয়। এদের লাগাম টেনে ধরার জন্য স্বল্প সময়ের নোটিশ দিয়ে চাকরি থেকে অব্যাহতির বিষয়টি অযৌক্তিক নয়। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ের কোনো কারণ নেই। যারা অনিয়ম-দুর্নীতি করার চিন্তা করবেন, তারা সংশোধিত আইনে কিছুটা হলেও ভয়ে থাকবেন।